কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলে শাহরিয়ার জামান রানা (৪০) ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তিনি জানান, সন্ধ্যায় তাঁর ছেলে শাহরিয়ার জামান রানা গচিহাটা বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার সময় তিনি নিজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ কারণে হামলার বিস্তারিত তথ্য জানতে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, গচিহাটা কলেজ মাঠে একটি মাদকসেবী চক্র নিয়মিত মাদক সেবন করে আসছিল। কয়েক দিন ধরে শাহরিয়ার জামান রানা তাদের কলেজ মাঠে মাদক সেবন না করার জন্য নিষেধ করে আসছিলেন। এ নিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের ধারণা, সেই বিরোধের জের ধরেই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় গচিহাটা বাজারে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি শাহরিয়ার জামান রানার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বাজিতপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন