রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী ওদেসায় শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে, যা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুর উপস্থিতি ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় একজন গর্ভবতী নারীসহ মোট এগারো জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে এবং সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স এক বছরের কম। এতে বোঝা যায়, সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীরভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে আঘাত হানছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা আরও জোরদার করেছে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বাল্টিক অঞ্চলের প্রিমোরস্ক বন্দরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান দূরপাল্লার হামলার কারণে রাশিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম সাইবেরিয়ার ওমস্ক এবং উরাল অঞ্চলের পার্ম শহরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে স্পষ্ট যে ইউক্রেনের হামলা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় উফা শহরের একটি বড় তেল শোধনাগারের উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং আরও কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শুধু স্থলভাগেই নয়, সমুদ্রপথেও হামলা বাড়ানো হয়েছে, যেখানে ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকারগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। আবুধাবি ও জেনেভায় একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে সংঘাতের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
মন্তব্য করুন