মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত এক মাসে মোট ৯৭২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই কারণে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিমান চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের প্রভাবে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা সীমিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এসব রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনস বাধ্য হয়ে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংকটের শুরুর দিকে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল:
সবমিলিয়ে মোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭২টিতে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আকাশসীমা ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ওপরই নির্ভর করছে ফ্লাইট পরিচালনার পূর্ণ স্বাভাবিকতা।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীরা। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে, যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি জেনে নেওয়া উচিত। এটি যাত্রীদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধা এড়াতে সহায়ক হবে।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন ও কার্গো ডেলিভারিতে ব্যাপক ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী ব্যবসায়ী ও প্রবাসী কর্মীরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আকাশসীমা দ্রুত খোলার পাশাপাশি বিমান সেবা পুনরায় চালু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন