ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ বিরতির পর খুলছে ইরানের শেয়ারবাজার

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ৮০ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হচ্ছে ইরানের শেয়ারবাজার। চলতি সপ্তাহে দেশটির শেয়ার, ইক্যুইটি ফান্ড এবং ডেরিভেটিভস লেনদেন পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাজার পুনরায় চালুর ঘটনাকে দেশটির অর্থনীতির বাস্তব অবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ইরানের পুঁজিবাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্গানাইজেশনের (এসইও) উপপ্রধান হামিদ ইয়ারি জানান, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, আবেগপ্রবণ শেয়ার বিক্রি রোধ এবং স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাজার পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় কোম্পানিগুলোকে যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতি ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় বাজার বন্ধ থাকায় শুরুতে বড় ধরনের আতঙ্কজনিত বিক্রির ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত কয়েক বছরে ইরানের শেয়ারবাজার নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাজারে বড় ধস নেমেছে একাধিকবার। বাজার বন্ধ হওয়ার আগে তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

পুনরায় চালুর পরও অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের সঞ্চয় শেয়ারবাজারে না রেখে স্বর্ণ, ডলার, আবাসন কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিকল্প সম্পদে রাখতে পারেন বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ ছাপানোর প্রবণতা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।

যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যা পুঁজিবাজারের বড় কোম্পানিগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এসইও জানিয়েছে, বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে পর্যবেক্ষণ করা হবে—যুদ্ধের সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান, পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার পুনরায় চালুর সময় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে দ্রুত বিক্রির চাপ বাজারকে আবারও অস্থির করে তুলতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পর বাজারে সাময়িক পতন হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা স্থিতিশীল হতে সময় লাগে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেন্টাকির নির্বাচনে ট্রাম্পবিরোধী রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয়

1

জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

2

তিন দিনের সফরে রাশিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

3

সারা দেশে কালবৈশাখীর আশঙ্কা

4

বহুমুখী চাপে ইসরাইল, যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বাড়ছে হতাশা

5

অস্ত্র হাতে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, তদন্তের নির্দেশ পুলিশ

6

চুক্তি হলেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে : ট্রাম্প

7

সন্তানদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের অভিযোগ

8

গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, যা জানালেন স্পিকার

9

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে কমেছে পশু কোরবানি

10

চাহিদা কমায় দেশে নেই লোডশেডিং

11

এআইচালিত নতুন টর্পেডোর পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার, বাড়ছে নৌ-সামরি

12

ইরান যুদ্ধের অবসানে চুক্তি খুব কাছাকাছি: ট্রাম্প

13

পাঁচ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ, এনসিপির জেলা নেতা কারাগারে

14

কারাগারে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-সুইমিং পুল, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা

15

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় চাপে বাংলাদেশ অর্থনীতি

16

ভাইরাল সেই বিউটি রানী জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত

17

ফিফা প্রেসিডেন্টকে নির্বাচনে জেতাতে ‘গোপন’ চুক্তি

18

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ চিত্র মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের সর্বশেষ

19

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

20