নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে।
যার শুরু হয়েছিল ম্যাচের সপ্তম মিনিটে। আর ৩২ মিনিটে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।
বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স, আর সেই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন দেম্বেলে। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ফরাসিরা।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় ফরাসি ফুটবলার হলেন দেম্বেলে। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন ও কিলিয়ান এমবাপে।
বিশ্বকাপের দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড এখনো অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রোবস্টের দখলে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। প্রায় ৭২ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা সেই রেকর্ডের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছেন দেম্বেলে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি এখন দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে ৮০০-এর বেশি ম্যাচে এখন পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়েছে মাত্র ৫৬টি। সেই বিবেচনায় দেম্বেলের এই কীর্তির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই প্রথম গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন দেম্বেলে। ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের বাঁ কোণে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি।
২০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে করেন দ্বিতীয় গোল। এরপর থেকেই চাপে পড়ে যায় নরওয়ের রক্ষণভাগ। ফরাসি আক্রমণের গতি সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে তারা।
হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে দেম্বেলের সময় লাগে আর মাত্র ১২ মিনিট। ৩২ মিনিটে বাঁক খাওয়া অসাধারণ এক শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফ্রান্সের হাতে তুলে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
এই কীর্তির মাধ্যমে ১৯৯৪ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করার নজিরও গড়লেন দেম্বেলে। প্রায় তিন দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন তিনি।
ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে জাস্ট ফন্টেইন এক কিংবদন্তি নাম। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ে ও পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে দুটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় আর কোনো ফরাসি ফুটবলার বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি।
সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান কিলিয়ান এমবাপে। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিন গোল করেছিলেন তিনি। যদিও টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় ফ্রান্সের।
এবার সেই গৌরবময় তালিকায় নিজের নাম যোগ করলেন দেম্বেলে। বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্সের হয়ে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলারদের বিশেষ ক্লাবে জায়গা করে নিয়ে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন, কেন তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের ফুটবলার বলা হয়।