ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মিয়ারশেইমার। তার মতে, সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
মিডল ইস্ট মনিটর নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মিয়ারশেইমার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও ইরানকে দুর্বল করতে পারেনি। সেই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের ছোট দেশগুলোর পক্ষে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক লড়াইয়ে সফল হওয়া অত্যন্ত কঠিন।
তিনি বলেন, “টানা ৪০ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েও ইরানকে পরাজিত করতে পারেনি। সেখানে ছোট আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জন্য ইরানের মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব।”
মিয়ারশেইমারের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ অবস্থানে থেকে ইরানবিরোধী নীতিকে সমর্থন করছে, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি আমিরাত সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ইরান দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে পানি শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। তার ভাষায়, “তেহরানের এমন সক্ষমতা রয়েছে, যা আমিরাতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।”
অধ্যাপক মিয়ারশেইমার মনে করেন, সংঘাতের পথে না গিয়ে আমিরাতের উচিত হবে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং তেহরানের সঙ্গে স্থিতিশীল ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
এর আগেও ইরান নিয়ে একাধিক বিশ্লেষণে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলার কৌশল ইরান ভালোভাবেই আয়ত্ত করেছে। নতুন করে হামলা বা সামরিক অভিযান চালিয়ে ওয়াশিংটনের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এমন মন্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন