যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থী রয় কুপার। এতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। এ নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর ভোটারদের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা চারটি সিনেট আসনের মধ্যে একটি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইনসভা নির্বাচন ও গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন এবং সিনেটে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে হবে।
নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং এর ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতিগত পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর ভোটারদের মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়বে।
প্রাথমিক ফলাফল দিয়ে এখনো নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফলাফল প্রকাশের পরই কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন