যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে কাতার। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনা আবারও শুরু করার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে দেশটি।
এর মধ্যেই সোমবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রাখতে কাতারের তৎপরতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠির জবাব ও বার্তা নিয়ে গত শুক্রবার কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইরান সফর করে। এর পরদিনই আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল দোহায় পৌঁছায়।
কাতারের লক্ষ্য এখনই কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পাদন নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে স্থগিত হয়ে যাওয়া কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা পুনরায় চালু করার মতো একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করা।
সর্বশেষ সোমবার রাতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল আবারও তেহরানে যায়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের পর তারা দ্রুত দোহায় ফিরে আসে।
কাতারি প্রতিনিধিদের এই ধারাবাহিক সফর থেকে বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু বা কোনো সমঝোতার অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের অভিযোগ, এর আগেও অন্তত দুইবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে দেশটির ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এ কারণে শুধু আলোচনার আশ্বাস নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা বা বাজেয়াপ্ত করা ইরানি সম্পদ ফেরত
আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করা
তেহরানের মতে, এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া আলোচনায় ফিরে আসা কঠিন।
কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি। কেশম দ্বীপে হামলার খবর নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাই আপাতত কাতারের প্রধান লক্ষ্য দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে না দেওয়া। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের মতো বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান না হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা অনিশ্চিত।
মন্তব্য করুন