পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গরু ও অন্যান্য নির্দিষ্ট পশু জবাইয়ের ওপর রাজ্য সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে উল্লেখ করে।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি করা বাধ্যতামূলক কোনো ধর্মীয় বিধান নয়। এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদালত আরও জানায়, রাজ্য সরকার ২০২৬ সালের ১৩ মে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তা পূর্বের একটি হাইকোর্ট নির্দেশনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। ফলে এই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে স্থগিতাদেশ দেওয়ার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু কোরবানি নিয়ন্ত্রণ আইন’ অনুযায়ী ধর্মীয় বা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশেষ প্রয়োজনে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই আইনের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট কিছু পশুকে ‘নাজুক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের জবাইয়ের ক্ষেত্রে সনদপত্র বাধ্যতামূলক করেছে।
আদালতে দায়ের হওয়া একাধিক জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি বাতিলের আবেদন জানানো হলেও হাইকোর্ট তা গ্রহণ করেনি। বরং আদালত রাজ্য প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন জানায়।
শুনানিতে আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, সংশ্লিষ্ট আইনটি মূলত নির্দিষ্ট কিছু এলাকার জন্য প্রণীত হলেও তা পুরো রাজ্যে কার্যকর করা হয়েছে। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
অন্যদিকে কলকাতা পৌরসংস্থার পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অনুমোদন প্রক্রিয়া তাদের রয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে পশু কোরবানির বিধিনিষেধ বহাল থাকায় বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন