ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মৃত্যুদণ্ডে পুরোনো পদ্ধতি ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাষ্ট্র

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যবহৃত চেয়ার |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। ভয়াবহ অপরাধীদের সাজা বাস্তবায়নে গ্যাস চেম্বার, ইলেকট্রিক চেয়ার এবং ফায়ারিং স্কোয়াডের মতো পুরোনো ও বিতর্কিত পদ্ধতিগুলো আবার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, এখন থেকে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ, বৈদ্যুতিক শক কিংবা সরাসরি গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সুযোগ থাকবে। এর পাশাপাশি আগের বিষাক্ত ইনজেকশন পদ্ধতিও বহাল রাখা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে—মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়াকে দ্রুত করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কঠোর আইন-শৃঙ্খলা নীতির ওপর জোর দেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেন, ধর্ষণ, হত্যা ও গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আরও জোরদার করতে।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যেসব আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত এবং আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই, নতুন নীতির ফলে তাদের সাজা কার্যকরের পথ আরও পরিষ্কার হবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ফেডারেল পর্যায়ে সরাসরি ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

এই নীতি জো বাইডেন প্রশাসনের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। বাইডেন তার মেয়াদকালে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে বহু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে জনমত এখন বিভক্ত। ১৯৯৪ সালে যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এই শাস্তির পক্ষে ছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তা কমে প্রায় ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। অনেকের মতে, এই শাস্তি প্রয়োগে সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান কিছুটা ব্যতিক্রমী। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে অথবা কার্যকর করা বন্ধ রেখেছে। এমনকি রাশিয়ায়েও আইনগতভাবে শাস্তিটি থাকলেও ১৯৯৬ সাল থেকে তা কার্যকর করা হয়নি।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিসরে আবারও প্রশ্ন তুলেছে—অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তি কতটা কার্যকর এবং মানবাধিকার বিবেচনায় তা কতটা গ্রহণযোগ্য।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রামিসা হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দির পর অসুস্থতার ভান করলেন অভিযুক্

1

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত জনপদ, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

2

ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোকে ১৬ জনের মৃত্যু

3

নতুন ভিসিকে বাধা, ডুয়েটে ব্লকেড

4

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত : ট্রাম্পের

5

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে কোনো চুক্তি হয়নি, হতাশ ইউক্রেন

6

হরমুজ প্রণালীতে ২৪০০ নাবিক আটক

7

মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে মোদির প্রতিশ্রুতি

8

টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২

9

হাসিনা ও কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ

10

চট্টগ্রামে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

11

বিশ্বের ৭টি দেশের নামে ‘স্তান’ থাকার কারণ কি?

12

দক্ষিণ লেবাননে পানি সরবরাহ কেন্দ্রে হামলা

13

মাদারীপুরে একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার

14

শিক্ষা ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন: ডিসেম্বরেই এসএসসি ও এইচএসসি

15

দুপুরের মধ্যেই রাজধানীসহ ৮ জেলায় আঘাত হানবে কালবৈশাখী

16

দীর্ঘতম মোতায়েন শেষে ফিরছে ইউএসএস ফোর্ড

17

মিয়ানমারে বন্দিদের সাজা কমানোর ঘোষণা

18

কত বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়বেন জানালেন ফজলুর রহমান

19

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলছেন মেসি, নিশ্চিত করলেন কোচ আয়ালা

20