মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার নতুন খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১ নভেম্বর) একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
একই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেন বিপৎসংকেত বা ‘মেডে’ পাঠান। তিনি জানান, কাছাকাছি থাকা আরেকটি জাহাজ অজ্ঞাতপরিচয় বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির পরিচয় এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রোববার আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত হানে। এতে জাহাজ দুটি বিস্ফোরিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ট্যাংকার দুটির নাম, পতাকাবাহী দেশ, ক্রুদের অবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইআরজিসির এ দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে শুক্রবার কাতারের একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে হামলার খবর প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্সি (কিউএনএ)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় জলসীমা দিয়ে চলাচলের সময় অজ্ঞাতপরিচয় বস্তু দিয়ে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।
হামলার শিকার জাহাজটির নাম ‘আল-মায়েদা’। এটি কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিকানাধীন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী জাহাজ।
কিউএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় জাহাজটিতে থাকা কোনো নাবিক আহত হননি। পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির বরাত দিয়ে জানানো হয়, জাহাজটি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচলের উপযোগী।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজে হামলার খবর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এ পথে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
তবে বিভিন্ন ঘটনার দায়, হামলার ধরন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত দাবিগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন