যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় বিজনেস জেট বিধ্বস্ত হয়ে নয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা সব আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তবে আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হলেও মাটিতে থাকা কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস।
সোমবার (২ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিমানের ককপিটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথনের একটি রেকর্ডিংয়ে দুর্ঘটনার আগে পাইলটকে উড়োজাহাজে বরফ জমার সমস্যাকে ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য’ বলতে শোনা যায়। তবে কিছুক্ষণ পরই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।
একপর্যায়ে আতঙ্কিত ক্রু সদস্যদের বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মাটিতে বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি।’
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তবে বরফ জমার সমস্যার সঙ্গে দুর্ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল জনপ্রিয় ‘লিয়ারজেট ৬০’ মডেলের একটি ব্যক্তিগত বিজনেস জেট। এটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ছিল বলে নিশ্চিত করেছে। তবে এতে থাকা আরোহীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি তীব্র গতিতে খাড়া কোণে মাটিতে আছড়ে পড়ে। এর পরপরই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
দুর্ঘটনাস্থলের ফুটেজে বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং সড়কে ছড়িয়ে থাকা পিচের ওপর আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ সময় আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় গভর্নর রন ডিস্যান্টিস দুর্ঘটনাটিকে ‘প্রলয়ংকরী’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উড়োজাহাজটিকে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নিচের দিকে ধেয়ে আসতে দেখা গেছে। এটি সড়কের পাশে বড় একটি গর্ত তৈরি করেছে।
উড়োজাহাজটি যে এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোর দূরত্ব প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার বা ৯ মাইল।
তবে দুর্ঘটনাস্থলের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের নিকটবর্তী হওয়া ছাড়া অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার তদন্তে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডকে (এনটিএসবি) সহায়তা করতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।
দুর্ঘটনার কারণ, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং আবহাওয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন