ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

লাখ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

কোমরপানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা। গতকাল কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বড় হাওর থেকে তোলা।

ফসল তোলার মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠার কথা ছিল দেশের হাওরাঞ্চল। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সেই আশার আলো ম্লান হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার—এই সাত জেলার বিস্তীর্ণ হাওরে এখন হতাশা আর ক্ষতির দীর্ঘ ছায়া। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধানের বিশাল অংশ পানির নিচে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, অন্তত এক লাখ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় দেড় লাখ কৃষক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার পথে। ইতিমধ্যে কাটা ধানও রক্ষা পায়নি—মাড়াইয়ের আগেই অনেক ধান পানিতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ক্ষতি কমাতে কৃষি বিভাগ থেকে সাত জেলায় ১১ হাজার ধান শুকানোর ড্রায়ার দেওয়ার ঘোষণা এলেও বাস্তবে এখনো কোনো এলাকায় তা পৌঁছেনি। ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে ফসল হারানোর শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের কৃষক আক্তার হোসেনের মৃত্যু পরিস্থিতির গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ঋণের বোঝায় জর্জরিত এই কৃষক ফসলহানির ধাক্কা সামলাতে পারেননি। তার পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

হাওরে ধান কাটার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। শুরুতেই কম্বাইন হার্ভেস্টারের অভাব ছিল, আর যেগুলো এসেছে সেগুলো নিয়েও রয়েছে বৈষম্যের অভিযোগ। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, প্রভাবশালী মহল বড় কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকের অভাবে ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না, আর যারা আছে তারা উচ্চ মজুরি দাবি করছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় যন্ত্র নামানো যাচ্ছে না, আর বজ্রপাতের ভয়ে শ্রমিকরাও মাঠে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে বহু জমির ধান চোখের সামনে পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো যেত। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই আর ফসল রক্ষা সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জে ধান কাটা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দুর্যোগের সময়েও কৃষি বিভাগ ধান কাটার হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখিয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। কৃষকদের দাবি, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে কয়েকদিন কেউ মাঠে নামতেই পারেননি, অথচ প্রতিবেদনে উল্টো চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ, বাস্তবসম্মত সহায়তা এবং সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনুশীলনে মেসির শটে ভাঙল ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা

1

দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা ও কার্যকর সমাধান

2

হাওরাঞ্চলের ৬ জেলায় আজ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু

3

আমরা ফেল করতে আসিনি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

4

২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ

5

দীর্ঘতম মোতায়েন শেষে ফিরছে ইউএসএস ফোর্ড

6

লেবানন-ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি আলোচনা মঙ্গলবার

7

ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া লাইফ সাপোর্ট, দাবি ট্রাম্পের

8

সীমান্ত হত্যাকাণ্ড আর মেনে নেবে না সরকার

9

দীর্ঘ বিরতির পর খুলছে ইরানের শেয়ারবাজার

10

গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত

11

দুপুরে ডাকসুর প্যানেল ঘোষণা করবে ছাত্রদল

12

ফুয়েল পাস চালু আরও ৬ জেলায়

13

মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন থালাপতির প্রার্থী

14

সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি ছাত্রদল নেতার

15

নানির দেশের আদরে মুগ্ধ রোনান সুলিভানরা

16

সংসদে বিরোধী দলকে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে

17

সত্যিই কি ভিটামিন সি সর্দি সারায়

18

ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে : ট্রাম্প

19

পাকিস্তানে নিরাপত্তা অভিযানে ২২ নিহত

20