চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে দুধ দিয়ে গোসল করেছেন মোহাম্মদ ফারুক (৪৮) নামে এক ব্যক্তি। জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তাঁর গোসল করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লেও ফারুক সোমবার রাতে উপজেলার আধুনগর বাজারে দুধ দিয়ে গোসল করেন।
ফারুক উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের গাটিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিজের ফেসবুক আইডিতে জামায়াতের পক্ষে নিয়মিত ভিডিও বক্তব্য দেওয়ায় এলাকায় তিনি দলটির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফারুককে বলতে শোনা যায়, ‘আজ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মন থেকে ঘৃণা করি।’
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, আধুনগর ইউনিয়নে দলটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চুরি, ডাকাতি ও ভোট চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ফারুক আরও বলেন, তিনি জামায়াতের নেতা বা কর্মী ছিলেন না, তবে দলটিকে সমর্থন করতেন। বর্তমানে আধুনগর ইউনিয়নে দলটির দায়িত্বে থাকা নেতাদের কার্যকলাপ তাঁর পছন্দ হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, সোমবার আধুনগর বাজার কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি পদে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা আলাদা প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হন। এ ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফারুক স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সমালোচনা করে ফেসবুকে ভিডিও বক্তব্য দেন।
তাঁর অভিযোগ, ইউনিয়ন জামায়াতের নেতারা কথা দিয়েও তাঁর সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি।
বুধবার বিকেলে দৈনিক যুগান্তরকে ফারুক বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে ভালোবাসতেন ও সমর্থন করতেন। তাঁর অভিযোগ, আধুনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল কাদের ও সেক্রেটারি জহির অর্থের বিনিময়ে তাঁর পছন্দের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছেন এবং ভোটের ফল পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন।
তবে ফারুকের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আধুনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল কাদের বলেন, ফারুক একজন অশিক্ষিত মানুষ; তাঁর এসব বক্তব্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি দাবি করেন, বাজার কমিটির নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াত কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়নি। তবে সভাপতি পদে ফারুকের ব্যক্তিগত পছন্দের একজন প্রার্থী ছিলেন এবং তিনি পরাজিত হয়েছেন। এ কারণে ফারুক ক্ষুব্ধ হয়ে আবেগের বশে এমন কাজ করে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাজার কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফারুকের ক্ষোভ ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন