চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে একটি মিনি ট্রাক থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়া-কেয়াজুপাড়া সড়কের এমচর হাটের কাছে পুলিশের জ্যাকেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি একটি মিনি ট্রাক আটক করে কেরানিহাটের দিকে নিয়ে যান। পরে ওই ট্রাক থেকে ইয়াবা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন চালক।
স্থানীয় টমটমচালক মোহাম্মদ শাকিল জানান, তিনি কয়েকজনের সঙ্গে একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একটি নোহা গাড়ি ও মোটরসাইকেল থেকে নেমে পুলিশের জ্যাকেট পরা কয়েকজনকে মিনি ট্রাকটি আটক করে নিয়ে যেতে দেখেন।
মিনি ট্রাকের চালক নাসিরের অভিযোগ, লোহাগাড়ার পুটিবিলা এলাকায় গাড়িটি আটক করে তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়। পরে ট্রাকে লুকিয়ে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা বের করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার কনস্টেবল মহসিন ও ফয়েজ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নাসির। তাঁর ভাষ্য, পরে তাঁকে গাড়িসহ এসআই মাহবুবুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াবা পরিবহনের তথ্য পেয়ে কেরানিহাট এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন এসআই মাহবুবুর রহমান। কিন্তু গাড়িটি তাঁর কাছে পৌঁছানোর পর তল্লাশি না করেই ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে ভিডিও ফুটেজে থাকা পুলিশ সদস্যদের চেনেন না বলে দাবি করেছেন ওই এসআই। এতে গাড়িটি কার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছিলেন এবং ইয়াবা পরিবহনের তথ্য থাকার পরও কেন তল্লাশি করা হয়নি—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাঁকে সার্কেল কর্মকর্তা দেখিয়েছেন। অভিযান সম্পর্কে তাঁকে কেউ জানায়নি বলে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
গাড়ির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সামনে এনে ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ তুলেছেন। চালক নাসিরের দাবি, গাড়িটি আটকের পর ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে কনস্টেবল মহসিন ও ফয়েজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাতকানিয়া থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন