রাগের মাথায় কেউ যদি ‘আমি মুসলমান নই’ বলে ফেলেন, অথচ অন্তরে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস রাখেন, তাহলে তাঁর ঈমানের কী হবে? নতুন করে কালেমা পড়তে হবে কি না, আর বিবাহিত হলে বিয়ের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এ বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি।
সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, রাগের বশে স্বেচ্ছায় এমন কথা বললেও বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অন্তরে ঈমানের বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও মুখে কুফরিসূচক কথা উচ্চারণের ধর্মীয় পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমির বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ স্বেচ্ছায় রাগের মাথায় নিজেকে মুসলমান নন বলে দাবি করলে তাঁর তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং ঈমান নবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিবাহিত হলে শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে বিবাহ নবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তরে ঈমানের বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় মুখে কুফরিসূচক কথা বলা গুরুতর বিষয়।
রাগের মাথায় বলা প্রতিটি কথার বিধান এক নয়। ব্যক্তির বক্তব্য, উদ্দেশ্য, মানসিক অবস্থা এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধর্মীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তাই এমন কোনো কথা বলে ফেললে নিজের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছে যোগ্য আলেমের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলা উচিত।
বিশেষ করে ঈমান ও বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছেন বলে ঘোষণা করা বা তাঁর বিবাহের অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।
এ ধরনের কথা বলে ফেললে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা, ঈমানের প্রতি নিজের বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা এবং নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিবাহ নবায়ন আবশ্যক কি না, তা ব্যক্তির নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য শরিয়তি বিধান যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ এ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসলামি বিধান সম্পর্কে সংশয় তৈরি হলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোরআন-সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহি সূত্রের আলোকে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়াই সংগত।
মন্তব্য করুন