ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ১৯ জুলাইয়ের বিশ্বকাপ ফাইনাল। যেখানে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্পেন এবং আর্জেন্টিনা।
২০১০ সালের পর প্রথমবার স্পেন বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। ওই বছর তারা প্রথম বিশ্বকাপও জিতেছিল। আর্জেন্টিনা বৈশ্বিক আসরে দারুণ ফুটবল খেলছে। শেষ চার বছরে তিনটিতেই তারা ফাইলে উঠেছে। ২০১৪ সালে শিরোপা পায়নি মেসিরা। ২০১৮ সালে উঠতে পারেনি সেরা চারে। ২০২২ সালে মেসিরা চ্যাম্পিয়ন। এবার ২০২৬ সালে আবার ফাইনালে।
এবারের ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের জন্ম দিতে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। অর্থাৎ, ইউরোপের সেরা দল এবং দক্ষিণ আমেরিকার সেরা দল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে শিরোপার জন্য লড়বে।
এর আগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই এমন ঘটনা ঘটেনি। যেখানে একই সময়ে ইউরো ও কোপা আমেরিকার বর্তমান দুই চ্যাম্পিয়ন ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়েছে। এই বিরল কীর্তি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।
একদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের কৌশল, গতি ও শৃঙ্খলা, অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার সৃজনশীলতা, আবেগ ও আক্রমণাত্মক ফুটবল। দুই মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ফাইনাল শুধুমাত্র একটি শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়। এটি হবে দুই মহাদেশের আধিপত্যের লড়াই, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রকাশিত ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ছিল বিশ্বের এক নম্বর দল এবং স্পেন ছিল দুই নম্বরে। ১৯৯২ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো কোনো ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল। এর আগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন নজির কখনো দেখা যায়নি।
একদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন বনাম কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক ও দুই নম্বর দলের লড়াই, দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা একই ম্যাচে মিলিত হতে যাচ্ছে।