দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন সুধন গুরুং। বিনিয়োগ ও আর্থিক স্বার্থসংক্রান্ত বিতর্কের কারণে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে গুরুং জানান, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তার মতে, সরকারি পদে থাকলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজার ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিনিয়োগ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা তিনি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। “পদের চেয়ে নৈতিকতা ও জনআস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ”—পোস্টে এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
গুরুং উল্লেখ করেন, নেপালে চলমান জেন জি আন্দোলন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের যে দাবি তুলেছে, তা তিনি সম্মান করেন এবং সেই দাবিকে গুরুত্ব দেন।
এর আগে সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে তিনি সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তখন থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। পরে তিনি ২৭ মার্চ নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে সম্প্রতি মানি লন্ডারিং মামলায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী দীপক ভাটের গ্রেপ্তারের পর গুরুংয়ের সঙ্গে তার আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপ, জনমত এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হলেন নেপালের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন