ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারছে না রাকসু

ছবি: সংগৃহীত

৩৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। “সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট” নামে পরিচিত বিজয়ী প্যানেল নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্যাম্পাসে হতাশা বাড়ছে।

নির্বাচনে জয়ী এই প্যানেল ১২ মাসে ২৪ দফা ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘোষিত ২৪ দফার মধ্যে মাত্র কয়েকটি বিষয়ে সীমিত অগ্রগতি দেখা গেছে। এর মধ্যে লাইব্রেরি সংস্কার, কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কিছু সভা-সেমিনার আয়োজন থাকলেও বড় ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাব্বিরুল আজিজ আসিফ বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি। তার মতে, কিছু ছোট উদ্যোগ দেখা গেলেও সার্বিক অগ্রগতি খুবই সীমিত।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা আবাসন সংকট এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে। বহু শিক্ষার্থী এখনো অনিরাপদ ও ব্যয়বহুল পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের পড়াশোনা ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও ডাইনিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত পরিবর্তন পাননি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও খাবারের মান এখনো সন্তোষজনক নয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহীন মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও আবাসন, নিরাপত্তা এবং নারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আম্মার বলেন, প্রশাসনিক সহযোগিতার ঘাটতি ও কিছু জটিলতার কারণে সব প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তবে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেমন হল সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। তবে তিনি স্বীকার করেন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বড় ইস্যুগুলোতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে শিক্ষার্থীরাই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাকসু ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে রাকসুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধীরগতিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, আর ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লুকিয়ে আমিরাতে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু

1

মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের বিপ্লবী গার্ড

2

পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণে আজ সিদ্ধান্ত

3

ঈদে মাংসের ভিন্ন স্বাদের ৪ রেসিপি জেনে নিন

4

ঈদের দিন ছাড়া খোলা থাকবে কাস্টম হাউস

5

হজে গিয়ে মৃত্যু নিয়ে হাদিসে কী বলা আছে

6

সংকট মোকাবেলায় ১০০ কোটি লিটার জ্বালানি মজুত করবে অস্ট্রেলিয়া

7

দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

8

চীন সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

9

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ গ্রহণ

10

নানির দেশের আদরে মুগ্ধ রোনান সুলিভানরা

11

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে না জড়ানোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলো ফ্রান

12

ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে চাপে ফেলল বাংলাদেশ

13

ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ২০

14

হাম মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন জরুরি পদক্ষেপ

15

অতিরিক্ত হাসিল ও ভিড় এড়াতে খামারমুখী কুমিল্লার ক্রেতারা

16

ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

17

ভারতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে শিশুসহ নিহত ৭

18

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় উপসাগরীয় দেশগুলো

19

ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে ৬ জনের মৃত্যু

20