বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, ব্রাজিলিয়ানদের কাছে এটি আবেগ, ঐতিহ্য এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল মাঠে নামলে গোটা দেশ একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরেও দেশটির সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া।
বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হলো, এখানে শুধু বড় দলগুলো নয়, অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোরও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল টুর্নামেন্টের চিত্র বদলে দিয়েছে। কম পরিচিত দলগুলোও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে বড় চমক উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপেও এমন কিছু দল নজর কাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শুরু থেকেই কোনো দলকে নিশ্চিত শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা করা কঠিন। প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে নতুন গল্পের জন্মদাতা।
ব্রাজিল সমর্থকদের বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে দলের অন্যতম তারকা নেইমারের ফিটনেস। দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা এই ফরোয়ার্ড দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একটি সফল টুর্নামেন্টের জন্য পুরো দলকে সম্মিলিতভাবে পারফর্ম করতে হবে। কোনো একটি খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দলকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। প্রতিটি দলই নিজেদের দিনে কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে। তাই গ্রুপ পর্ব থেকেই সতর্ক থাকতে হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
মজার বিষয় হলো, এবার অনেক বিশ্লেষক ব্রাজিলকে শীর্ষ ফেভারিটদের তালিকায় রাখছেন না। তবে এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেক সমর্থক। কারণ অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ না থাকলে খেলোয়াড়রা আরও স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে পারেন।
বিশ্বমানের আক্রমণভাগ, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিভাবান তরুণদের সমন্বয়ে গড়া বর্তমান ব্রাজিল দল শুরুটা ভালো করতে পারলে টুর্নামেন্টে অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। আর বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথম কয়েকটি ম্যাচের আত্মবিশ্বাসই অনেক সময় শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।
তাই ব্রাজিল সমর্থকদের একটাই প্রত্যাশা—বিশ্বকাপের শুরুটা হোক দারুণ, আর সেই ছন্দ ধরে রেখে দল এগিয়ে যাক আরেকটি স্বপ্নের শিরোপার দিকে।
মন্তব্য করুন