গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখা ও তৃষ্ণা মেটাতে Watermelon একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর ফল। তবে বেশিরভাগ মানুষ শুধু এর লাল অংশ খেয়েই সীমাবদ্ধ থাকেন। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজের খোসার ভেতরের সাদা অংশ এবং বীজেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
তরমুজের খোসার ভেতরের সাদা অংশে থাকে ‘সিট্রুলিন’ নামের একটি উপাদান, যা রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে ব্যায়ামের পর ক্লান্তি দূর করতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।
এই অংশে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, আর ভিটামিন এ ও সি ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়।
তরমুজ শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য বের করে দিতে সহায়তা করে, যা কিডনির জন্য উপকারী। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সতেজ রাখে এবং বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি লাইকোপেনসহ অন্যান্য উপাদান শরীরের ভেতরের জ্বালাপোড়া কমিয়ে শরীরকে আরও সতেজ রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তরমুজের খোসা কার্যকর হতে পারে। এতে ক্যালরি খুব কম থাকায় এটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং বিপাকক্রিয়াও উন্নত হয়।
অন্যদিকে, তরমুজের বীজেও রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। এতে থাকা ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম ও ফোলেট হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই বীজ ফেলে না দিয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
তরমুজের খোসার সাদা অংশ ছোট টুকরা করে কেটে কাঁচা সালাদ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। লেবু ও বিট লবণ মিশিয়ে খেলে এর স্বাদ আরও বাড়ে। এছাড়া এটি ডাল বা তরকারির সঙ্গে রান্না করেও খাওয়া যায়, আবার কেউ কেউ ভাজি হিসেবেও খেয়ে থাকেন। তবে পুষ্টিমান অটুট রাখতে কাঁচা খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
এছাড়া খোসা দিয়ে ডিটক্স ওয়াটার বা জুসও তৈরি করা যায়। বরফ, পুদিনাপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে ব্লেন্ড করে পান করলে এটি শরীরকে আরও সতেজ রাখে। অন্যদিকে বীজ শুকিয়ে বা হালকা ভেজে খেলে তা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে কাজ করে।
সব মিলিয়ে, Watermelon শুধু একটি ফল নয়, বরং এর প্রতিটি অংশই শরীরের জন্য প্রাকৃতিক পুষ্টির ভান্ডার—যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বাড়তি উপকার এনে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন