ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চোখের নিচে ফোলাভাব কি শুধু ঘুমের অভাবে

ছবি: সংগৃহীত।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় চোখের নিচে ফোলাভাব বা ‘আই ব্যাগস’ দেখতে পেলে বেশিরভাগ মানুষই ধরে নেন, এর কারণ রাতের অপর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, চোখের নিচে ফোলাভাবের কারণ সবসময় ঘুমের ঘাটতি নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন, বংশগত বৈশিষ্ট্য কিংবা জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসের ফলও হতে পারে। তাই সমস্যার প্রকৃত কারণ না জেনে বিভিন্ন আই ক্রিম বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, চোখের নিচের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল। এই অংশের নিচে পেশি, লিগামেন্ট এবং চর্বির স্তর থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব টিস্যু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চামড়ার নিচে থাকা চর্বি সামনের দিকে সরে এসে ফোলাভাব তৈরি করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার জিনগত কারণেও অল্প বয়স থেকেই চোখের নিচে ব্যাগের মতো ফোলা ভাব দেখা যায়।

চোখের নিচের ফোলাভাব সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো অস্থায়ী ফোলা ভাব, যা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা, ধূমপান, মদ্যপান বা শরীরে তরল জমে যাওয়ার কারণে দেখা দেয়। দ্বিতীয়টি হলো কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট আই ব্যাগস, যা মূলত বার্ধক্য বা বংশগত কারণে হয়ে থাকে এবং সহজে দূর হয় না।

এই সমস্যা কমাতে কিছু ঘরোয়া উপায় কার্যকর হতে পারে। ঠান্ডা চামচ বা কাপড়ে মোড়ানো বরফ কয়েক মিনিট চোখের নিচে ধরে রাখলে সাময়িকভাবে ফোলাভাব কমে। এছাড়া ঘুমানোর সময় মাথা সামান্য উঁচুতে রাখলে চোখের নিচে তরল জমার প্রবণতা কমে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান, খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকাও উপকারী।

ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ও রেটিনয়েড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চোখের আশপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শক্তিশালী কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

যেসব ক্ষেত্রে ঘরোয়া যত্নে উপকার মেলে না, সেখানে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। চোখের নিচে গভীর গর্ত বা ফাঁপা অংশ থাকলে ‘টিয়ার-থ্রু ফিলার’ ব্যবহার করে সেই স্থান পূরণ করা হয়। এছাড়া ত্বকের শিথিলতা ও বলিরেখা কমাতে লেজার ট্রিটমেন্ট কার্যকর হতে পারে।

চোখের নিচে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে বা ত্বক বেশি ঝুলে পড়লে ‘লোয়ার ব্লেফারোপ্লাস্টি’ নামে পরিচিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত চামড়া ও চর্বি অপসারণ করা হয়। এতে চোখের নিচের অংশ আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চোখের নিচে ফোলাভাব দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা দ্রুত বেড়ে গেলে সেটিকে শুধুমাত্র ঘুমের অভাব ভেবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এর পেছনে শারীরিক বা চিকিৎসাজনিত অন্য কারণও থাকতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে চান কত শতাংশ মার্কিন নাগরিক? জেনে

1

হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শর্ত দিল ইরান

2

মৌসুম শেষে বার্সা ছাড়তে পারেন ছয় তারকা

3

আজ শুরু জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন

4

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : ডিএমপি

5

আজকের স্বর্ণের দাম

6

হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় সরলথকে হেনস্তা

7

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

8

বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে যা বললেন দীপ্তি

9

নেপালে জেন জি বিক্ষোভে নিহত ১৯

10

নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

11

পোল্যান্ডে ৫ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

12

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় চাপে বাংলাদেশ অর্থনীতি

13

জাতীয় জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের উপস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক

14

হরমুজ প্রণালিতে কড়া নিয়ন্ত্রণে ইরান

15

ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন ধস

16

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় চ্যালেঞ্জ ইরানের মশা নৌবহর

17

জুলাইয়ে কখনোই বিশ্বকাপ জেতেনি আর্জেন্টিনা

18

২০ মাসে ধর্ষণ ও নির্যাতনে নিহত ৬৪৩ শিশু

19

আমিরাত উপকূলে নিয়ন্ত্রণ দাবি ইরানের

20