দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৯.০৪ শতাংশ। ফলে টানা দুই মাস ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯.৯৪ শতাংশে পৌঁছে ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এরপর কিছুটা কমলেও আবারও তা বাড়তে শুরু করেছে। মে মাসের এই হার অনুযায়ী, এক বছর আগে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে তা কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা।
খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মে মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯.৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৭১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ দৈনন্দিন পণ্যের দামও বেড়েছে। এমনকি চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার পর্যবেক্ষণে জানা গেছে।
মূল্যস্ফীতি বাড়লেও মজুরি বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। মে মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.২১ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় চাপ আরও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষ। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঋণ করে জীবন চালাচ্ছে, আবার অনেকে খাদ্য, পোশাক ও পরিবহন খাতে ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছেন।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি ওঠানামা করলেও ফেব্রুয়ারিতে তা ৯ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। মার্চে কিছুটা কমলেও এপ্রিল থেকে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি করছে।
মন্তব্য করুন