ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, বদনজরের প্রভাব সত্য। কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, কোরআনের নির্দিষ্ট সুরা পাঠ এবং হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসলামি শিক্ষায় মানুষের উচিত সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চাওয়া। তবে কোনো অসুস্থতা বা সমস্যাকে শুধু বদনজরের ফল বলে ধরে না নিয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ও বাস্তবসম্মত সহায়তাও নেওয়া জরুরি।
সুরা ইউসুফের ৬৭-৬৮ নম্বর আয়াতে হজরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর সন্তানদের মিসরে প্রবেশের সময় সতর্কতামূলক নির্দেশ দিয়েছিলেন। আয়াতগুলোতে তাঁর সন্তানদের বিভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে বলার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাফসিরে এ নির্দেশের সঙ্গে বদনজরের আশঙ্কার প্রসঙ্গও আলোচিত হয়েছে।
ইসলামি বিশ্বাসে বদনজর থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসেও বর্ণনা পাওয়া যায়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বদনজরের প্রভাব সত্য। এ মর্মে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণনা রয়েছে।
আরেকটি বর্ণনায় হজরত আসমা বিনতে উমায়স (রা.) শিশুদের বদনজর লাগার আশঙ্কার কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়ার অনুমতি দেন। এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামে কোরআন ও হাদিসসম্মত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস তিনবার করে পড়ার আমল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এসব সুরা পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া যায়।
হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়া হলো—
বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামাই, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সঙ্গে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়া তিনবার পড়ার কথা হাদিসে এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সব ধরনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয়।
শিশুদের সুরক্ষার জন্যও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল থেকে দোয়া পড়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
বাংলা উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অর্থ: আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, ক্ষতিকর প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর নজর থেকে আশ্রয় চাই।
শিশুদের জন্য এ দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা প্রার্থনা করা যায়।
বদনজর থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং নিয়মিত দোয়া-জিকির করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একই সঙ্গে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো সমস্যার কারণ নিশ্চিত না হয়ে সেটিকে বদনজর বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন