সর্দি হলে অনেকেই কমলালেবু, লেবুর শরবত বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে ভিটামিন সি দ্রুত সর্দি সারাতে সাহায্য করে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করে না।
সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসজনিত রোগ, বিশেষ করে রাইনোভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়। একবার ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে ভিটামিন সি সরাসরি সেটিকে ধ্বংস করতে পারে না। এই সংক্রমণ শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সেরে ওঠে।
তবে ভিটামিন সি শরীরের জন্য একেবারেই অপ্রয়োজনীয় নয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে এবং শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ায়, যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে সর্দির স্থায়িত্ব কিছুটা কমতে পারে এবং উপসর্গের তীব্রতা হালকা হতে পারে। তবে এই প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একরকম নয় এবং এটি সর্দি প্রতিরোধে নিশ্চিত কোনো সমাধান নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে সর্দির উপসর্গ কিছুটা উপশম হতে পারে। তবে এটি কোনো চিকিৎসা নয়, বরং সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
ভিটামিন সি-এর প্রধান উৎস হলো ফল ও সবজি। যেমন কমলালেবু, লেবু, পেয়ারা, আমলকি, ক্যাপসিকাম ও বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ভিটামিন সি গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৭৫–৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি যথেষ্ট, যা খাদ্য থেকেই পাওয়া সম্ভব।
সর্দি হলে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান, গরম ভাপ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভিটামিন সি কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়। এটি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, তবে সর্দি সারানোর একমাত্র সমাধান নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
মন্তব্য করুন