যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত এবং নীতিগত অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে বৈঠক করেছে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলো।
শুক্রবার (২২ মে) সুইডেনের হেলসিংবার্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ন্যাটো মিত্ররা ওয়াশিংটনের সেনা প্রত্যাহার পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে চায়। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে আসন্ন জুলাই মাসের শীর্ষ সম্মেলনের আগে উত্তেজনা কমে আসে।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর ন্যাটোর ৭৭ বছরের পুরনো জোটে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্কের উত্তেজনা কমেছে কি না তা যাচাই করা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ নির্ধারণ করা।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ন্যাটো মিত্ররা ট্রাম্পের ইরান নীতিতে যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট অসন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে সরাসরি যুদ্ধ বা সামরিক সহায়তা পাঠাতে বলা হয়নি, তবুও তাদের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত পর্যায়ে ছিল না।
অন্যদিকে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারকে বড় ধরনের সংকট হিসেবে না দেখে বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি পোল্যান্ডে নতুন করে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করবেন, যা আগের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন