অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যে চিঠি ৭২ বছর পর ফিরে এলো প্রেরকের হাতেই!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েস অঙ্গরাজ্যের ওটাওয়া শহরের এক কিশোর, অ্যালান বল, গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন সুদূর পুয়ের্তো রিকো।  সময়টা ১৯৫৩ সাল। প্রথমবারের মতো বাড়ির বাইরে একা ভ্রমণ। পথে নিউ ইয়র্কে ট্রেন থেকে নেমে তিনি ঘুরে দেখেন জাতিসংঘের সদর দপ্তর—এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। সেই সফর থেকেই পরিবারের উদ্দেশে পাঠানো একটি পোস্টকার্ড আজ, ৭২ বছর পর, আশ্চর্যজনকভাবে এসে পৌঁছেছে তার হাতে। 


মাত্র ২ সেন্ট মূল্যের সেই পোস্টকার্ডে লেখা ছিল, ‘সবাইকে ভালোবাসা, অ্যালান।’ ছবির দিকে ছিল জাতিসংঘের সচিবালয় ভবন, নীল আকাশ আর ইস্ট রিভারের ফিরোজা জলরাশি। তবে পোস্টকার্ডটি কখনোই পৌঁছায়নি তার পরিবারের কাছে, যা তিনি নিজেও জানতেন না।
 
১৯৫৩ সালে পাঠানো পোস্টকার্ডটি হঠাৎ করে ইলিনয়েসের একটি ডাকঘরে পাওয়া যায়। সাত দশকের বেশিরভাগ সময় এটি জাতিসংঘের ভেতরেই হারিয়ে ছিল বলে ধারণা করা হয়। ছবি: অ্যালান বল

এখন আইডাহোর স্যান্ডপয়েন্টে বসবাসকারী ৮৮ বছর বয়সী অ্যালান বল জানান, কয়েকদিন আগে এক ডাককর্মীর হাত ধরে পোস্টকার্ডটি তার ঠিকানায় আসে। অবসরে যাওয়া এই জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ২ সেন্টের ডাকটিকিটটা দারুণ কাজ করেছে! এটা আমাকে কেবল হাসিয়েছে। ৭২ বছর পর কার চিঠি ফেরত আসে?

১৯৫৩ সালের ১৭ জুন লেখা সেই পোস্টকার্ডে অ্যালান জাতিসংঘ ভবনের আধুনিকতার কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন, আমরা এখন জাতিসংঘ ভবনে আছি। পুরোটাই অত্যন্ত আধুনিক। তিনি জানান, তখনও বিমানের টিকিট কেনা হয়নি, তবে খুব শিগগিরই কিনবেন বলেও লিখেছেন। ট্রেনে বসে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া একটি টেলিগ্রামের কথাও ছিল পোস্টকার্ডে, যার জবাবে অ্যালান লিখেছিলেন, মনে হয় সব ঠিক হয়ে যাবে।

পোস্টকার্ডটি ছিল তাঁর বাবা, রেভারেন্ড এফ.ই. বল-এর উদ্দেশ্যে। তাতে লাগানো ছিল জাতিসংঘের বিশেষ ডাকটিকিট। যদিও অ্যালান এখনো পুরো সেই সফরের অনেক কিছু ভুলে গেছেন, তবে পোস্টকার্ডের বার্তাটির ছবি দেখলেই নিজের হাতের লেখা চিনতে পারেন।

গত মাসে ইলিনয়ের ওটাওয়ার একটি পোস্ট অফিসে হঠাৎ করেই খুঁজে পাওয়া যায় এই পোস্টকার্ডটি। স্থানীয় ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি জাতিসংঘের ভেতরেই কোথাও সাত দশক ধরে আটকে ছিল। পরে ডাক বিভাগের প্রচেষ্টায় ১,৭০০ মাইল দূরের স্যান্ডপয়েন্ট শহরে পৌঁছায় বার্তাবাহী এই পুরনো কার্ডটি।

এরপর থেকেই অ্যালান স্থানীয়ভাবে এক ‘তারকা’। পোস্টকার্ডটি হাতে পাওয়া নিয়ে ছবি তুলেছেন পোস্ট অফিসের কর্মীর সঙ্গে, আর তার এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দ্য বনার কাউন্টি ডেইলি বি’-এর প্রথম পাতায়।
 
পোস্টকার্ডটি হাতে পেয়ে কিশোর বয়সের সাদা-কালো দিনগুলো যেন আবার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে অ্যালানের। বললেন, এর মধ্যে তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা ছিল না। শুধু ছিল, 'আমি এখানে আছি, নিউ ইয়র্কে ঘোরাঘুরি করছি, সম্ভবত উড়োজাহাজের জন্য অপেক্ষা করছি’—কিন্তু ইলিনয়ের বাইরে এটাই ছিল আমার প্রথম সফর, তাই তখন এটি ছিল আমার জন্য বিশাল ব্যাপার।

অ্যালান এখন পোস্টকার্ডটি বাঁধিয়ে নিজের ঘরের দেয়ালে রাখার পরিকল্পনা করছেন। তার ভাষায়, আমি অপ্রত্যাশিত জিনিস পছন্দ করি, আর মজার জিনিসও ভালো লাগে। এই ঘটনাতে দুটোই আছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাফটাইম: কলম্বিয়া ১-০ ঘানা

1

ট্রলি ব্যাগ কেনার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই দেখে নেবেন

2

বর্ণবাদী মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে ট্রাম্প

3

মধ্য এশিয়ার খনিজ সম্পদে পশ্চিমাদের নজর, চিন্তিত রাশিয়া

4

নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ নিলো সরকার

5

লিবিয়ায় নৌকা থেকে ৪০৪ অভিবাসী উদ্ধার

6

পারিবারিক গল্প নিয়ে আসছে ঈদের নাটক ওয়ারিশ

7

মুখে নয়, মাঠেই হবে লড়াই

8

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

9

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

10

হরমুজ প্রণালীতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ: যুদ্ধবিরতি বহালের

11

মেসি কি লাল কার্ড থেকে বেঁচে গেলেন

12

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে মিসাইল হামলার দাবি

13

মন খুলে গান গাওয়া যায়, নাম্বার দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

14

‘এই জয় তার জন্য উপহার’ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ম্যারাডোনাকে স্মরণ

15

দেশের ৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

16

স্পেনে দাবানলের ক্ষত কাটছে না, চিন্তায় হাজারো মানুষ

17

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফর

18

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের রোডম্যাপে অগ্রগতি

19

তোপের মুখে পড়ে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল

20