যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েস অঙ্গরাজ্যের ওটাওয়া শহরের এক কিশোর, অ্যালান বল, গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন সুদূর পুয়ের্তো রিকো। সময়টা ১৯৫৩ সাল। প্রথমবারের মতো বাড়ির বাইরে একা ভ্রমণ। পথে নিউ ইয়র্কে ট্রেন থেকে নেমে তিনি ঘুরে দেখেন জাতিসংঘের সদর দপ্তর—এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। সেই সফর থেকেই পরিবারের উদ্দেশে পাঠানো একটি পোস্টকার্ড আজ, ৭২ বছর পর, আশ্চর্যজনকভাবে এসে পৌঁছেছে তার হাতে।
মাত্র ২ সেন্ট মূল্যের সেই পোস্টকার্ডে লেখা ছিল, ‘সবাইকে ভালোবাসা, অ্যালান।’ ছবির দিকে ছিল জাতিসংঘের সচিবালয় ভবন, নীল আকাশ আর ইস্ট রিভারের ফিরোজা জলরাশি। তবে পোস্টকার্ডটি কখনোই পৌঁছায়নি তার পরিবারের কাছে, যা তিনি নিজেও জানতেন না।
১৯৫৩ সালে পাঠানো পোস্টকার্ডটি হঠাৎ করে ইলিনয়েসের একটি ডাকঘরে পাওয়া যায়। সাত দশকের বেশিরভাগ সময় এটি জাতিসংঘের ভেতরেই হারিয়ে ছিল বলে ধারণা করা হয়। ছবি: অ্যালান বল
এখন আইডাহোর স্যান্ডপয়েন্টে বসবাসকারী ৮৮ বছর বয়সী অ্যালান বল জানান, কয়েকদিন আগে এক ডাককর্মীর হাত ধরে পোস্টকার্ডটি তার ঠিকানায় আসে। অবসরে যাওয়া এই জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ২ সেন্টের ডাকটিকিটটা দারুণ কাজ করেছে! এটা আমাকে কেবল হাসিয়েছে। ৭২ বছর পর কার চিঠি ফেরত আসে?
১৯৫৩ সালের ১৭ জুন লেখা সেই পোস্টকার্ডে অ্যালান জাতিসংঘ ভবনের আধুনিকতার কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন, আমরা এখন জাতিসংঘ ভবনে আছি। পুরোটাই অত্যন্ত আধুনিক। তিনি জানান, তখনও বিমানের টিকিট কেনা হয়নি, তবে খুব শিগগিরই কিনবেন বলেও লিখেছেন। ট্রেনে বসে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া একটি টেলিগ্রামের কথাও ছিল পোস্টকার্ডে, যার জবাবে অ্যালান লিখেছিলেন, মনে হয় সব ঠিক হয়ে যাবে।
পোস্টকার্ডটি ছিল তাঁর বাবা, রেভারেন্ড এফ.ই. বল-এর উদ্দেশ্যে। তাতে লাগানো ছিল জাতিসংঘের বিশেষ ডাকটিকিট। যদিও অ্যালান এখনো পুরো সেই সফরের অনেক কিছু ভুলে গেছেন, তবে পোস্টকার্ডের বার্তাটির ছবি দেখলেই নিজের হাতের লেখা চিনতে পারেন।
গত মাসে ইলিনয়ের ওটাওয়ার একটি পোস্ট অফিসে হঠাৎ করেই খুঁজে পাওয়া যায় এই পোস্টকার্ডটি। স্থানীয় ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি জাতিসংঘের ভেতরেই কোথাও সাত দশক ধরে আটকে ছিল। পরে ডাক বিভাগের প্রচেষ্টায় ১,৭০০ মাইল দূরের স্যান্ডপয়েন্ট শহরে পৌঁছায় বার্তাবাহী এই পুরনো কার্ডটি।
এরপর থেকেই অ্যালান স্থানীয়ভাবে এক ‘তারকা’। পোস্টকার্ডটি হাতে পাওয়া নিয়ে ছবি তুলেছেন পোস্ট অফিসের কর্মীর সঙ্গে, আর তার এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দ্য বনার কাউন্টি ডেইলি বি’-এর প্রথম পাতায়।
পোস্টকার্ডটি হাতে পেয়ে কিশোর বয়সের সাদা-কালো দিনগুলো যেন আবার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে অ্যালানের। বললেন, এর মধ্যে তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা ছিল না। শুধু ছিল, 'আমি এখানে আছি, নিউ ইয়র্কে ঘোরাঘুরি করছি, সম্ভবত উড়োজাহাজের জন্য অপেক্ষা করছি’—কিন্তু ইলিনয়ের বাইরে এটাই ছিল আমার প্রথম সফর, তাই তখন এটি ছিল আমার জন্য বিশাল ব্যাপার।
অ্যালান এখন পোস্টকার্ডটি বাঁধিয়ে নিজের ঘরের দেয়ালে রাখার পরিকল্পনা করছেন। তার ভাষায়, আমি অপ্রত্যাশিত জিনিস পছন্দ করি, আর মজার জিনিসও ভালো লাগে। এই ঘটনাতে দুটোই আছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস