বর্তমান সময়ে ত্বকের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো ব্রণ। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ, ধুলাবালি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়মিত জীবনযাপন ব্রণ হওয়ার প্রধান কারণ।
অনেক সময় মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়। ত্বকের লোমকূপে তেল ও মৃত কোষ জমে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে ব্রণ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, বংশগত কারণ এবং স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহারের ফলেও ব্রণ হতে পারে।
ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন অন্তত দুইবার হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি। তৈলাক্ত প্রসাধনী ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত এবং যে পণ্যে ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা থাকে সেগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, অর্থাৎ অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খাওয়া, পাশাপাশি ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খাওয়া উপকারী। চিনি, অতিরিক্ত তেল ও ঝালযুক্ত খাবার কম খাওয়াও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
ঘরোয়া যত্ন হিসেবে মধু, নিমপাতা ও অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে নিমপাতা বেটে লাগালে জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। তবে ব্রণ খোঁটানো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে দাগ ও সংক্রমণ বাড়তে পারে।
যদি ব্রণের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা ব্যথাযুক্ত হয়ে ওঠে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক পরিচর্যা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমেই ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মন্তব্য করুন