প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় প্রথম দুই মাসেই ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দাবি করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এসব উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারি তথ্যমতে, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে হাজারো পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ কৃষি খাতকে শক্তিশালী করছে। এছাড়া জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এসব পরিকল্পনার অংশ।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, বৃত্তি বৃদ্ধি, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু এবং বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নেও সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নদী খনন, সবুজ বনায়ন কর্মসূচি, পরিবেশবান্ধব বাস চালু এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং নদী রক্ষা আইন বাস্তবায়ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায়ও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল এবং অনলাইন ভূমি সেবা চালু করার মতো উদ্যোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, চাঁদাবাজি দমন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জোর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপগুলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও কার্যকর করে তুলবে।
মন্তব্য করুন