ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম ধরা পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৬০৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯১ শিশু এবং হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৫১৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় একজন শিশু নিশ্চিত হামে এবং তিনজন হামের উপসর্গে মারা গেছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে ৭৫ হাজার ৭০৮ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ২৬০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ হাজার ১৯৪ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৭ হাজার ৪৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আট মাস বয়সী ওই শিশুর বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায়। বুধবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৮৫২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭১৩ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ২৫ শিশু এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৩ শিশু।

ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর ঘটনা চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি করছে। হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর স্বজন হামিদা আক্তার বলেন, প্রতিদিন মৃত্যুর খবর শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন তারা। সন্তানের সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা জানান, মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুই শুধু হামে নয়, একই সঙ্গে অন্যান্য জটিল রোগেও আক্রান্ত ছিল। ফলে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জটিলতা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সক্ষমতা, বিশেষ করে আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি করা না গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উৎসবের আমেজে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

1

ভাঙনের ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের পারকি উপকূল

2

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

3

দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা ও কার্যকর সমাধান

4

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

5

মে মাসের মধ্যেই হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশাবা

6

গরমের দিনে চুলের যত্ন নেওয়ার সেরা উপায়গুলো

7

রামিসা হত্যাকাণ্ড স্বামী জাকিরকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্বপ্

8

এক্সের বিরুদ্ধে জরিমানা বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার আদালত

9

ভারতের ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ১০৭ মুসলিম প্রার্থী

10

অনলাইন আর্থিক প্রতারণা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা

11

মে দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

12

শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালুর সিদ্ধান্ত

13

২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ

14

বিশ্বকাপ দেখতে কর্মকর্তাদের দেরিতে কাজ করার অনুমতি জর্ডানের

15

রাশিয়ায় বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসার

16

পাকিস্তানে নিরাপত্তা অভিযানে ২২ নিহত

17

হয়রানি না করার নিশ্চয়তা পেলেই দেশে ফিরবেন সাকিব আল হাসান

18

এনসিপির ‘নারীশক্তি’র নেতৃত্বে দিবেন যারা

19

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

20