কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় রাঙামাটির নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। নৌপথে ডুবোচর জেগে ওঠা এবং নৌরুট অগভীর হয়ে পড়ায় একাধিক রুটে লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে নৌকা ও স্পিডবোটই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, লংগদু ও বরকলসহ ছয়টি উপজেলা মূলত কাপ্তাই হ্রদের নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচর রুটে লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বরকল ও লংগদু রুটে সীমিত আকারে ছোট নৌযান চলাচল করলেও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হ্রদে ড্রেজিং না হওয়ায় নৌপথে অসংখ্য ডুবোচর তৈরি হয়েছে। এতে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন স্থানে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কাঁচালং নদীর মতো অনেক এলাকা এখন অগভীর হয়ে গেছে এবং কিছু জায়গা ছড়ার মতো হয়ে পড়েছে। এর কারণে স্পিডবোটও অনেক রুটে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।
রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনু উদ্দিন সেলিম বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত কমতে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বর্তমানে একাধিক নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ২৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি ইউনিট ইতিমধ্যে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, আগামী বর্ষা মৌসুম শেষে হ্রদে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নৌপথসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন