জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশে চলমান আলোচনার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কোনো চাপের কারণে নয়, বরং বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ-এর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকার জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে আসছিল, যা রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। পাশাপাশি পাচার রোধ এবং আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম সমন্বয় ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে তাৎক্ষণিকভাবে ভাড়া সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
পরিবহনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, শুধুমাত্র ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কারণ গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো গ্যাসচালিত বাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ঢাকার যানজট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরের প্রধান সড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে অটোরিকশা চলাচল সীমিত করা হবে। তার মতে, অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপ নগরজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং একটি পরিকল্পিত সমাধানের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে গত ১৮ এপ্রিল দেশে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এর প্রভাবে ২৩ এপ্রিল থেকে আন্তঃজেলা ও মহানগর রুটে বাসভাড়াও কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।