সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা, যা বৃহৎ শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত, এখন এক ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে। নলুয়া, মই ও পিংলা হাওড়সহ ছোট-বড় প্রায় ১৫টি হাওড় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে হাওড় এলাকার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। যেখানে সোনালী ধানের উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই হতাশা আর কান্নার দৃশ্য। কৃষকদের সারা বছরের কষ্টে ফলানো ফসল কর্দমাক্ত পানির নিচে ডুবে পচে যাচ্ছে।
উপজেলার প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা বোরো ধানের প্রায় অর্ধেকই ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক পানির নিচ থেকে ডুবে যাওয়া ধানের গোছা টেনে তুলছেন। কেউ আবার দিগন্তজোড়া পানির দিকে নির্বাক তাকিয়ে আছেন। অনেক ক্ষেত্রেই ধান কেটে রাখা হলেও বৃষ্টির কারণে তা ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে মাঠেই অঙ্কুর গজিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ভাড়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্র নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ দাবি করে। তবে বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে এসব আধুনিক যন্ত্রও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে যেখানে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন পানির নিচে ধান কাটতে ১৫০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাওসার আহমেদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ধান ঘরে তুলতে প্রশাসন কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাওড় এলাকার কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন