জাতীয় সংসদের ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যদের আলোচনার জন্য মোট ৪০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর আগে বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন, যা বাজেট অধিবেশন হিসেবে বিবেচিত, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অধিবেশনের কার্যক্রম, সময় বণ্টন এবং স্থায়িত্ব নিয়ে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংসদীয় রীতিনীতি অনুসারে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা পরিচালনার জন্য মোট ৪০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। এছাড়া ২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চার দিন প্রতিদিন দুই দফায় অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারের হাতে ন্যস্ত থাকবে।
চলতি অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রশ্ন ও নোটিশ জমা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ১৯১টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রীর উদ্দেশে ৩ হাজার ৩৭টি প্রশ্নসহ মোট ৩ হাজার ২২৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ৯৮টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী ২৯৩টি সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব জমা পড়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানসহ সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
আসন্ন বাজেট অধিবেশন দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নতুন অর্থবছরের রাজস্ব ও ব্যয় কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন