কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের নামে একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চিঠিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এর সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত এর সত্যতা অস্বীকার করেছে।
ভাইরাল হওয়া চিঠিতে দাবি করা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অনুষ্ঠিত একটি মিছিল এবং প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে অবিলম্বে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি প্রত্যাহার বা বদলির আদেশে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, যা ওই চিঠিতে দেখা যায়নি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এমন আদেশপত্রে সাধারণত দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম, স্বাক্ষর, দাপ্তরিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানোর বিষয় উল্লেখ থাকে। ভাইরাল হওয়া চিঠিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি একটি জাল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নথি।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার এবং স্বচ্ছভাবে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার কারণে কোনো অসন্তুষ্ট মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাতে পারে। তারা মনে করছেন, পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই ভুয়া চিঠি ছড়ানো হয়েছে।
এছাড়া কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের নতুন পোশাকের মান নিয়ে আলোচনা চলাকালে কুমিল্লার পুলিশ সুপার প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকার নতুন পোশাক পরিবর্তন করে আগের পোশাকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অনেকেই তাকে ভাইরাল হওয়া চিঠির বিষয়ে অবহিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এটি পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো অফিসিয়াল চিঠি নয় এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এমন ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া চিঠি তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন