ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) দক্ষিণ ও উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৫ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজায় একজন ‘সন্ত্রাসীকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
উত্তর গাজার গাজা সিটির রিমাল এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে বলে আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। ওই হামলায় তাজ মল নামের একটি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এ ছাড়া আগের এক হামলায় আহত আরেক ফিলিস্তিনি রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে রেভল্যুশন স্ট্রিটে হাঁটার সময় তিনজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন বাবা ও তাঁর শিশুসন্তান ছিলেন।
গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, উপত্যকাটিতে এমন দিন খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেদিন প্রাণঘাতী হামলার খবর আসে না।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষদের নিরাপত্তা দিতে টহলরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, এর প্রায় এক ঘণ্টা পর গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে আরেকটি হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
আল জাজিরার সাংবাদিকের ভাষ্য, এক বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বলা হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে উপত্যকাটিতে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য এবং হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন