অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশেই শুরু ভ্যানিলা চাষ, এক কেজির দাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা

আইসক্রিম, কেক, বিস্কুট থেকে শুরু করে পারফিউম ও প্রসাধনী—বিভিন্ন পণ্যে ভ্যানিলার স্বাদ ও সুগন্ধ ব্যবহার করা হয়। বিশ্বজুড়ে চাহিদা থাকা এই মসলার বাণিজ্যিক চাষের চেষ্টা এখন বাংলাদেশেও চলছে। ২০১৯ সালে বগুড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যানিলা চাষ শুরু হয়। এরপর ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষে আগ্রহী হয়েছেন উদ্যোক্তারা।

তবে এখনো দেশের চাষিরা বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেননি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক ভ্যানিলা প্রায় ২৫০ ডলার বা ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই মসলা দেশের কৃষি ও রপ্তানি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ভ্যানিলা চাষে কত সময় লাগে?

ভ্যানিলা সাধারণ ফসলের মতো প্রচলিত মাটিতে চাষ করা যায় না। এ জন্য তৈরি করতে হয় জৈব উপাদানসমৃদ্ধ বিশেষ চাষমাধ্যম বা অর্গানিক ডিকম্পোজড মিডিয়া। পাশাপাশি প্রয়োজন হয় ছায়াযুক্ত পরিবেশ। শেডে চাষের পাশাপাশি উপযুক্ত গাছের ছায়াতেও ভ্যানিলা চাষ করা সম্ভব।

একটি ভ্যানিলার চারা বা কাটিং রোপণের দুই থেকে তিন বছর পর ফুল আসতে পারে। প্রতিটি ফুলের থোকায় সাধারণত ১৩ থেকে ১৮টি ফুল থাকে। ফুল ফোটার পর তা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এই সময়ের মধ্যেই পরাগায়ন সম্পন্ন করতে হয়। তাই বাণিজ্যিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরাগায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পরাগায়নের পর ফল পরিপক্ব হতে আরও সাত থেকে আট মাস সময় লাগে। সাধারণত এপ্রিল মাসে ভ্যানিলাগাছে ফুল আসে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়।

ফল সংগ্রহের পরও রয়েছে দীর্ঘ প্রক্রিয়াজাতকরণ

ভ্যানিলার ফল সংগ্রহ করলেই তা বাজারজাত করার উপযোগী হয় না। সুগন্ধি মসলা হিসেবে বিক্রির আগে ফলগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত ও শুকাতে হয়।

প্রথমে ভ্যানিলা বিন বা ফল ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম পানিতে তিন মিনিট রাখা হয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা বাক্সে রেখে গাঁজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সময় সবুজ ভ্যানিলা বিন ধীরে ধীরে কালো রং ধারণ করে।

পরবর্তী এক মাস প্রতিদিন সকালে মৃদু রোদে প্রায় দুই ঘণ্টা করে শুকানো হয়। এভাবে প্রক্রিয়াজাত করার পর ভ্যানিলা বিন বাজারজাতের উপযোগী হয়। পরবর্তী ধাপে এসব বিন থেকে নির্যাস বের করে খাদ্য, প্রসাধনী ও সুগন্ধি শিল্পে ব্যবহার করা হয়।

তবে বাংলাদেশে এখনো বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলার নির্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যিক চাষে প্রাথমিক বিনিয়োগ ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা

বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফয়সাল ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ভ্যানিলা চাষের জন্য উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এটি অত্যন্ত শ্রমঘন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০ শতক জমিতে এক হাজার গাছ নিয়ে বাণিজ্যিক প্রকল্প শুরু করতে প্রাথমিকভাবে ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে চাষটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে কি না, তা যাচাই করার পরই সরকারিভাবে কৃষকদের কাটিং সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

ব্যক্তি উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছেন চাষিরা

সরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যিক চাষের প্রস্তুতি চললেও ব্যক্তি উদ্যোগে ইতিমধ্যে অনেকে ভ্যানিলা চাষে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁরা ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্যানিলার কাটিং সংগ্রহ করছেন। উদ্যোক্তারা নিজেদের মধ্যে চারা বিনিময় করেও চাষ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন।

এমনই একজন উদ্যোক্তা যশোরের মো. সারোয়ার হোসেন। আম ও ড্রাগন ফল চাষের পাশাপাশি ছায়াবৃত্ত ক্যানোপি পদ্ধতিতে ভ্যানিলা চাষ শুরু করেছেন তিনি।

সারোয়ার হোসেন জানান, চার বছর আগে ভ্যানিলা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথম দিকে কিছু গাছ মারা গেলেও বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ১৫০টি ভ্যানিলাগাছ বেড়ে উঠছে।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ভ্যানিলা হবে না—এ রকম কোনো জায়গা নেই। এখন দরকার উৎপাদন বাড়ানো। দেশে যদি ১০০ জন কৃষককে প্রয়োজনীয় ভ্যানিলা কাটিং দেওয়া হয়, তাহলে চার থেকে পাঁচ বছর পর এক হাজার কেজি ভ্যানিলা বিন রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এমনিতেই বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে।’

বিশ্ববাজার কত বড়?

ফরচুন বিজনেস ইনসাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যানিলার বৈশ্বিক বাজারের আকার ৪১০ কোটি ডলারের বেশি। ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজার ৬৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবছর বাজারটি ৬ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভ্যানিলাকে বিশ্বের দ্বিতীয় দামি মসলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথম স্থানে রয়েছে জাফরান। কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ভ্যানিলার গড় দাম ৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। পরে দাম কমে বর্তমানে প্রায় ২৫০ ডলারে নেমেছে।

দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে কৃত্রিম ভ্যানিলিনের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আইসক্রিম থেকে পারফিউম—কোথায় ব্যবহার হয় ভ্যানিলা?

খাদ্য ও পানীয় শিল্পে ভ্যানিলার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কেক, বিস্কুট, মাফিন, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, দই, কাস্টার্ড, ফ্লেভারড দুধ, ক্যান্ডি ও চকলেটে এর ব্যবহার রয়েছে।

এ ছাড়া সুগন্ধি, প্রসাধনী ও ওষুধশিল্পেও ভ্যানিলা ব্যবহৃত হয়। তবে ভ্যানিলা স্বাদের সব পণ্যে প্রাকৃতিক ভ্যানিলা বিন ব্যবহার করা হয় না। এর বড় অংশেই কৃত্রিম ভ্যানিলিন ব্যবহার করা হয়।

ভ্যানিলিন হলো ভ্যানিলার প্রধান সুগন্ধি যৌগ। এটি প্রাকৃতিক ভ্যানিলা বিন থেকে পাওয়া যায়, আবার শিল্পপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিমভাবেও তৈরি করা সম্ভব। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ব্যবহৃত ভ্যানিলা ফ্লেভারের ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশই কৃত্রিম উৎসের। তাই প্রাকৃতিক ভ্যানিলা বিনের বাজার এবং কৃত্রিম ভ্যানিলিনের বাজারকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

মেক্সিকোতে ভ্যানিলা চাষের সূচনা

ভ্যানিলার উৎপত্তি মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মেক্সিকোর পাপান্তলা অঞ্চলের টোটোনাক আদিবাসীরা প্রথম ভ্যানিলা চাষ শুরু করেন।

১৫ শতকে অ্যাজটেকরা টোটোনাকদের পরাজিত করে পাপান্তলা অঞ্চল দখল করে। এরপর চকলেটজাতীয় পানীয়ের স্বাদ বাড়াতে ভ্যানিলা ব্যবহার শুরু করে তারা।

পরে মেক্সিকোতে স্পেনের ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ভ্যানিলা ও চকলেটসহ বিভিন্ন মূল্যবান উপাদান স্পেনে পাঠানো শুরু হয়। সেখান থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই মসলা। পরবর্তী সময়ে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর উদ্যোগে ভ্যানিলা ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলেও চাষ হতে থাকে।

ভ্যানিলার ইতিহাস নিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সাবেক সাংবাদিক টিম ইকোট ‘ভ্যানিলা: ট্রাভেলস ইন সার্চ অব দ্য লাশাস সাবস্টেন্স’ নামে একটি বই লিখেছেন। ২০০৪ সালে প্রকাশিত বইটিতে মসলাটির উৎপত্তি ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

রপ্তানিতে শীর্ষে মাদাগাস্কার, আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র

প্রাকৃতিক ভ্যানিলা উৎপাদন ও রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কার। বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড সলিউশনসের (ডব্লিউআইটিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের ভ্যানিলা রপ্তানি করেছে।

রপ্তানিতে মাদাগাস্কারের পর রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, উগান্ডা ও কানাডা। এসব দেশ বছরে প্রায় দেড় কোটি থেকে চার কোটি ডলার পর্যন্ত ভ্যানিলা রপ্তানি করে। নেদারল্যান্ডস ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিও এক কোটি ডলারের বেশি।

অন্যদিকে ভ্যানিলার সবচেয়ে বড় আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ১০ কোটি ডলারের ভ্যানিলা আমদানি করেছে। আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় এরপর রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, ইতালি ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান আমদানি করা ভ্যানিলা বিন প্রক্রিয়াজাত করে নির্যাস তৈরি করে পুনরায় রপ্তানি করে।

প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, উগান্ডা, মেক্সিকো, পাপুয়া নিউগিনি, ভারত, কমোরোস ও তানজানিয়া। ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতিও বিশেষ ধরনের ভ্যানিলা উৎপাদনের জন্য পরিচিত।

বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনা, তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে

বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক ভ্যানিলার উচ্চমূল্য এবং খাদ্য ও সুগন্ধি শিল্পে এর চাহিদা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। তবে দীর্ঘ উৎপাদনকাল, শ্রমনির্ভর পরাগায়ন, উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং জটিল প্রক্রিয়াজাতকরণ বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে হলে উন্নতমানের চারা, প্রশিক্ষিত চাষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুতের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এসব বাধা অতিক্রম করা গেলে ভ্যানিলা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানিতে নতুন একটি পণ্য হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গরমের দিনে পান্তা ভাতে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

1

জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, খুলে দেখলেন সব টাকা ঝাঁঝরা

2

গাজীপুরে শ্রমিকদের কাজে ফেরা শুরু, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

3

গুনাহকে হালকা ভাবে নেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি

4

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ বছর পূর্ণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

5

জলাবদ্ধতায় ডুবেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ

6

কণ্ঠশিল্পী মমতাজের জামিন নামঞ্জুর

7

বহুমুখী চাপে ইসরাইল, যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বাড়ছে হতাশা

8

কুয়েতে ভেজাল মদ পানে ২৩ জনের মৃত্যু, মূলহোতা বাংলাদেশি

9

জামালপুরের কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণে নিহত ২

10

টেস্টে ফিরেই আবার চোট, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নেই ন

11

মেসির সঙ্গে খেলতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি: নেইমার

12

সব পাপ ধুয়েমুছে আল্লাহ-খোদার নাম নিয়ে মরতে চাই: পপি

13

দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিম ৩২ কোটি ৮২ লাখ

14

হজ শেষে দেশে ফিরলেন আরও ১১০৯ হাজি

15

টিকটক দেখেই ভ্রমণের গন্তব্য ঠিক করছে জেন-জিরা

16

ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান চিফ হুইপের

17

বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে মদের কারবার! গুলশানে অভিযানে বেরিয়

18

ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিল যুক্তরাষ্ট্র, পর্যালোচনায় তেহরান

19

শিশুদের জন্য বই লিখলেন জামাল মুসিয়ালা

20