প্রথম টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—কোনো বিভাগেই প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় প্রতিপক্ষের বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে দলকে। ফলে চার দিনের মাথায় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পাশাপাশি একাধিক সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করাও বাংলাদেশের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টেস্ট ক্রিকেটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফরম্যাটে এমন ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রমের পরও ম্যাচে তার প্রতিফলন ঘটাতে না পারাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ সামনে রেখে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ। সেখানে প্রথম টেস্টের ব্যর্থতা, ব্যাটিং কৌশল, একাদশের সমন্বয়, স্পিনারদের পারফরম্যান্স ও দলের প্রস্তুতি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
প্রথম টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতা স্বীকার করে কোচ বলেন, দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারেনি। অতীতে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ব্যাটিং করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ফরম্যাটে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ক্রিকেটাররা। তাঁর মতে, উইকেটের আচরণও ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল।
অনুশীলনে ভালো করার পরও ম্যাচে কেন তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নে কোচ জানান, খেলোয়াড়েরা ডারউইন সফরের আগে এবং পাকিস্তান সফরের প্রস্তুতিতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু সেই পরিশ্রম মাঠের পারফরম্যান্সে কাজে লাগাতে পারেননি। তাই অনুশীলনের মান ও ম্যাচের পারফরম্যান্সের মধ্যে সমন্বয় ফিরিয়ে আনতে হবে।
ব্যাটিংয়ের কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান কোচ। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষ ভালো বোলিং করবে, এটাই টেস্ট ক্রিকেটের স্বাভাবিক বাস্তবতা। তাই পরিস্থিতি বুঝে রান করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করার দক্ষতা বাড়াতে হবে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন কোচ। নতুন করে স্কোয়াডে যুক্ত হওয়া অমিতের খেলার সম্ভাবনাও আপাতত কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কোচ জানান, অমিত বদলি হিসেবে দলে যোগ দিয়েছেন। স্কোয়াডের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অমিতের অন্তর্ভুক্তির কারণে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানিয়েছেন কোচ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অধিনায়ককে সম্ভবত তিন নম্বরে ব্যাট করতে হতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
এদিকে দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কোচ। তাঁর মতে, তাইজুল দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলার হওয়ায় তাঁর ফর্ম নিয়ে চিন্তা থাকা স্বাভাবিক। বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড় নিজেও উদ্বিগ্ন এবং দলের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে প্রথম টেস্টে স্পিনারদের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পেলেও তাঁদের ওপর আস্থা হারাচ্ছে না বাংলাদেশ। কোচ মনে করেন, স্পিন বোলিং দলের অন্যতম শক্তির জায়গা। এই মাঠেই সর্বশেষ ম্যাচে শেষ দিনে স্পিনারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাই দ্বিতীয় টেস্টেও তাঁদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে একাধিক ক্যাচ হাতছাড়া করার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন প্রধান কোচ। তাঁর মতে, একটি ম্যাচে কয়েকটি ক্যাচ মিস হলেই কোনো দলকে দুর্বল ফিল্ডিং দল বলা যায় না। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত বেশি ক্যাচ ছাড়ার সুযোগ নেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফিল্ডিং করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করলেও ভবিষ্যতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশাবাদী তিনি।
সবশেষে দলের ইনজুরি পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কোচ। স্কোয়াডে কোনো ক্রিকেটার চোটে না থাকায় পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ শিবির। এখন প্রথম ম্যাচের ভুল শুধরে মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ঘটানোই টাইগারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য করুন