দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তী ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকের ফাঁকে আলোচনা করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি ও নরেন্দ্র মোদি। আলোচনায় ভারত-চীন সরাসরি ফ্লাইট চালু করাহস বেশ কিছু বিষয় স্থান পেয়েছে।
মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জানিয়েছেন, রাশিয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে সর্বশেষ সাক্ষাতের পর থেকে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্থিতিশীল অগ্রগতি হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। তাদের মতপার্থক্য যেন বিরোধে রূপ না নেয়।
মোদি জানিয়েছেন, দুই দেশ আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে, যা পুনর্মিলনের একটি বড় পদক্ষেপ। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। কোভিড মহামারির সময় সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছিল, ফলে যাত্রীদের হংকং বা সিঙ্গাপুর হয়ে যাতায়াত করতে হত।
সাক্ষাতে নরেন্দ্র মোদি কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর প্রসঙ্গও তোলেন। চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও চীন আবারও তিব্বতে কৈলাশ পর্বত ও মানস সরোবর লেকের তীর্থযাত্রা চালু করেছিল। গত মাসে চীনা নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত। উভয় কার্যক্রমই ২০২০ সালের মহামারির সময় স্থগিত ছিল।
মোদি আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পথে এগোতে হবে এবং তাদের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা সন্ত্রাসবাদ ও বহুপাক্ষিক ফোরামে ন্যায্য বাণিজ্যের মতো দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সাধারণ ভিত্তি সম্প্রসারণকে জরুরি মনে করেছেন।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তবে উভয় দেশই সম্পর্ক পুনর্গঠনে কাজ করছে। গত বছর রাশিয়ার কাজানে তাদের বৈঠক আরও পুনর্মিলনের পথ সুগম করে। মোদি ও শি জিনপিং জানান, সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার শান্তি ও স্থিতিশীলতা এনেছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও জোর দিয়ে বলেছেন, ভারত ও চীন বন্ধু এবং ভালো প্রতিবেশী। দুই দেশই গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং উভয়ের নাগরিকদের কল্যাণ উন্নয়নের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ইস্যু যেন সামগ্রিক সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত না করে। বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। ভারত ও চীনকে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্ককে পরিচালনা করতে হবে এবং তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক, সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে হবে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন উভয় দেশের জন্যই সহায়ক হতে পারে, কারণ তারা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র। ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) খাত চীনা কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধির সুযোগ দেবে, আবার ভারতীয় বাজারে অধিক প্রবেশাধিকার চীনের অর্থনীতিকেও এগিয়ে নেবে।