বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পূর্বে চূড়ান্ত করা ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা এখন আর সরাসরি কার্যকর করা হচ্ছে না। বরং নতুন ও পুরোনো আবেদন একসঙ্গে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা এই তালিকা নতুন নীতিগত সিদ্ধান্তের আওতায় পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে। পাশাপাশি নতুন আবেদনও গ্রহণ করা হবে, যাতে একটি স্বচ্ছ ও সমন্বিত তালিকা তৈরি করা যায়।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পূর্বের তালিকা বাতিল করা হয়নি, তবে সেটিকে নতুন আবেদনের সঙ্গে একত্র করে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে অনলাইনে তিন হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে এখন সেই প্রক্রিয়া নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে সরকারের প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতো। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দও রাখা হয়েছিল।
এছাড়া স্মাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্তও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় ভবিষ্যতে এসব বিষয় আবার বিবেচনা করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, দ্রুত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এবং কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পুরো তালিকা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির চেষ্টা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে এমপিওভুক্তি প্রত্যাশী হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন পেলেও এমপিও সুবিধা না পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ভবিষ্যতে একটি স্বচ্ছ ও টেকসই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমপিওভুক্তি কার্যক্রম চালানো হবে।
মন্তব্য করুন