ইরানের প্রতি যুগ যুগ ধরে বৈরি মনোভাব দেখিয়ে আসছিল সৌদি আরব। কিছু সময়ের জন্য চীন ও তুরস্কের মধ্যস্ততায় দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়া শুরু করলেও, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে তা আর সুফল পায়নি। প্রতিশোধমূলক আক্রমণের অংশ হিসেবে তেহরান রিয়াদ, দুবাই, দোহাসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এই ঘটনার ফলে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক তলানিতে চলে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরব তেহরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করেছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এটি যুদ্ধ চলাকালে ইরান যখন প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছিল, তখন দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনায় বর্তমান পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া, অঞ্চলে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রথমবারের সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা যেতে পারে।
সংক্ষেপে, সৌদি আরব প্রথমবারের মতো ইরানের সঙ্গে সরাসরি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছে। এই সংলাপ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন