স্বাস্থ্য সচেতন পরিবারে তো সবসময় ফলমূল রাখাই হয়। কমলা পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় নির্দ্বিধায় খাওয়া হয় এটি।
কমলা পুষ্টিসমৃদ্ধ হলেও অনেকের মনেই প্রশ্ন, ডায়াবেটিস থাকলে এটি খাওয়া যাবে কিনা। সাধারণত যাদের সুগার রয়েছে, তারা বেশ ভেবে তবেই খান। স্বাস্থ্যকর হওয়ার পরও আম-লিচুসহ অন্যান্য ফলের মতো সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত? এ নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন, ঠিক তখনই এই ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কলকাতার বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রুদ্রজিৎ পাল। তিনি জানিয়েছেন, কমলা একদম নিরাপদ। এটি খেলে ডায়াবেটিসের রোগীরা উপকার পাবেন।
ভিটামিন সি’র উৎস:
ডা. রুদ্রজিৎ জানিয়েছেন, কমলার মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কোলাজেন গঠনে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত কমলা খেলে ডায়াবেটিসের রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। একইসঙ্গে ত্বক, হাড়ের স্বাস্থ্য থাকবে। ভিটামিন সি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ফ্রি র্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে। প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও কাজ করে ভিটামিন সি।
ফাইবার সমৃদ্ধ:
শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবার প্রয়োজন। ফাইবার অতিরিক্ত শর্করাকে শোষণ করে। ডা. রুদ্রজিতের ভাষ্যমতে―কমলার মধ্যে বিদ্যমান ফাইবার ডায়াবেটিসের রোগীদের হজমে ভালো কাজ করে। হজমজনিত সমস্যা থাকলে কমলা খেলে ভালো উপকার মিলে।
কমলাকী সুগার বাড়ায়:
এ ব্যাপারে ডা. রুদ্রজিৎ বলেন, কমলা খেলে সুগার লেভেল কখনো বাড়ে না। যেসব খাবার, ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, সেসব ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এ জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৫। তাই নিশ্চিন্তে কমলা খাওয়া যেতে পারে। তবে কমলার রস বা জুস, বিশেষ করে প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলতে হবে। কেননা, বাজারে থাকা ফলমূলের জুস তৈরির সময় এতে চিনি ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান যোগ করা হয়। যা ডায়াবেটিসসহ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।