বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে চাপে পড়েছে পর্তুগাল। প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক এই ফলের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলটির অভিজ্ঞ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার পারফরম্যান্স, গতি এবং আক্রমণভাগে প্রভাব নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
এই পরিস্থিতিতে রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছেন পর্তুগালের তরুণ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মাঠে রোনালদোকে বল দিতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা দলের মধ্যে নেই। তার মতে, যিনি ভালো অবস্থানে থাকেন এবং দলের জন্য সেরা বিকল্প হন, তাকেই পাস দেওয়া হয়।
কনসেইসাও বলেন, রোনালদো দলের অন্য সবার মতোই একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তবে দলগত সাফল্যের জন্য প্রত্যেক খেলোয়াড়ের অবদান সমানভাবে জরুরি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর পেশাদার মানসিকতা, নেতৃত্ব এবং জয়ের ক্ষুধা তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করে।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেললেও আক্রমণে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি রোনালদো। ম্যাচে তিনি মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন, যা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সর্বনিম্ন পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পারফরম্যান্সের পর আবারও সামনে এসেছে লিওনেল মেসির সঙ্গে তার তুলনা। কারণ ম্যাচের আগের দিনই আর্জেন্টিনার হয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন মেসি। ফলে দুই কিংবদন্তির বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরিও রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, দলের প্রয়োজন জয় এবং গোল, ব্যক্তিগত অর্জন নয়। একই সঙ্গে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন মনে করেন, ম্যাচের শেষ দিকে ভিটিনহাকে তুলে গনসালো রামোসকে নামানো এবং রোনালদোকে মাঠে রেখে দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। তার মতে, কোচ রোনালদোকে পরিবর্তন করতে দ্বিধায় ছিলেন, যার প্রভাব পড়েছে দলের খেলায়।
অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগালায়েল মুকাউ জানান, রোনালদোকে আটকাতে তাদের আলাদা কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোনালদোর খেলায় বয়সের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।
সব সমালোচনা পাশ কাটিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে পর্তুগাল। গ্রুপ ‘কে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার হিউস্টনে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কনসেইসাও মনে করেন, খারাপ পারফরম্যান্সের পর সমালোচনা আসা স্বাভাবিক। তবে নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে পরের ম্যাচে ইতিবাচক ফল পাওয়াই এখন পর্তুগালের মূল লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন