ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ ও পরিচালন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সেখানে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৭০০ জনে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে বর্তমানে কর্মরত ১৯২ জনের সঙ্গে আরও ৫০৮ জন যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বরং কেন্দ্রটির কার্যক্রম ও সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কেন্দ্রটির নির্মাণ ও সেবা কার্যক্রমে ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেখানে মোট রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৭০০-তে পৌঁছাবে। তবে আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতির ওপর জনবল বৃদ্ধির গতি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন লিখাচেভ।
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন স্থানে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
রোসাটমের প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানে আরও আটটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়েও আলাদা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা জানানো হয়েছে।
গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে মঙ্গলবার রাতে মস্কো পৌঁছান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সফরকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও যৌথ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে সিআইএস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রোসাটমের প্রধান জানিয়েছিলেন, ইরানে ছোট ও বড় আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্থান বিবেচনা করা হচ্ছে।
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং নতুন বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ রাশিয়া ও ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বাড়লে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা ধীর হতে পারে বলে রোসাটম জানিয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর।
মন্তব্য করুন