ইরানের সঙ্গে চলমান সাম্প্রতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দৈনিক সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক ব্যয়ের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই স্বল্পমেয়াদি সংঘাত মোট খরচের পাশাপাশি দৈনিক ব্যয়ের দিক থেকেও অতীতের সব যুদ্ধকে ছাড়িয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এই যুদ্ধে দৈনিক ব্যয় ইরাক যুদ্ধের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮৮ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
প্রায় ৪০ দিন স্থায়ী এই সামরিক সংঘাতে মোট ব্যয় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ইরাক যুদ্ধে দৈনিক ব্যয় ছিল ৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার, কোরিয়া যুদ্ধে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আফগানিস্তান যুদ্ধে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে দৈনিক ব্যয় ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত তাদের ব্যয় ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু স্বাধীন সূত্রগুলো এই হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানিয়েছে, প্রকৃত ব্যয় ৪৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার, তীব্র বিমান অভিযান এবং লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধির কারণে এই যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। একইসঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতিও ব্যয়ের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতেই ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হওয়ায় মার্কিন মজুদেও চাপ পড়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রথম দিনের অভিযানেই বিপুল পরিমাণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংঘাতের মোট ব্যয় ৮৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি ও ব্যয় পুরোপুরি থেমে নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন