অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৪১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

নতুন মুসলিম জোট নিয়ে ভয়ে রয়েছেন ভারত!

ছবি: সংগৃহীত



সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশ করেছে পাকিস্তান। 

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সব সমীকরণই পাল্টে দিতে পারে এই চুক্তি। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকেও বেশ আকৃষ্ট করছে, যার ফলে ন্যাটোর আদলে নতুন এক মুসলিম জোটের উদ্ভব হতে পারে অচিরেই। এরই মধ্যে এ বিষয়টি শঙ্কিত করে তুলেছে পাকিস্তানের প্রতিবেশী ভারতকে। কারণ, তাৎক্ষণিক সামরিক হুমকি না থাকলেও উপমহাদেশের শক্তির ভারসাম্যে ভারতের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে নতুন এ জোট।  

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গত সপ্তাহে রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আলিঙ্গনের দৃশ্য ছিল বেশ অর্থবহ। আর এই উষ্ণতা আসে দুদেশের মধ্যে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর।

এর মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে উপসাগরের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজতন্ত্র আরও ঘনিষ্ঠ হলো। রয়টার্সকে সৌদি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছিলেন, এ চুক্তি মূলত বহুদিনের গভীর সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। কিন্তু, ভারতের কাছে এর তাৎপর্য অন্যরকম।

গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ রাখলেও পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ দেশটির থিংকট্যাংকে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে চার দিনের সংঘর্ষসহ কাশ্মির ইস্যুতে পরমাণু অস্ত্রধারী প্রতিবেশী দুদেশ একাধিকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে।

ফলে, পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতায় সৌদি আরবের সমর্থন ভারতকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো— চুক্তির শর্তে বলা হয়েছে, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা মানেই উভয় দেশের ওপর হামলা। কূটনৈতিকভাবে নয়াদিল্লির জন্য এটি ভালো সংকেত নয়। 

ভারতের কৌশলবিদ ব্রহ্মা চেলানি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, রিয়াদ জানত, ভারত এই চুক্তিকে নিজেদের নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে নেবে। তারপরও তারা এগিয়েছে।

তার মতে, এটি পাকিস্তানের শক্তি নয় বরং সৌদি আরবের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। তার ভাষায়, একজন দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরশীল অংশীদারকে সঙ্গে রাখাটা রিয়াদকে জনশক্তি ও পরমাণু বিমা’র নিশ্চয়তা দেবে। একইসঙ্গে তারা ভারত, ওয়াশিংটনসহ অন্যদের জানিয়ে দিলো যে নিজেদের পথ তারা নিজেরাই বেছে নেবে।

এদিকে পাকিস্তান ও সৌদির মধ্যে হওয়া চুক্তিটিকে ‘গুরুতর ভুল পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল। তিনি বলেছেন, এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিকভাবে অস্থির ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পাকিস্তানকে নিরাপত্তাদাতা বানানো বিপজ্জনক। পাকিস্তান–ভারত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে, নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার এখন পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এ চুক্তির প্রভাব কী হতে পারে, তা খতিয়ে দেখবে নয়াদিল্লি।

অবশ্য, সব বিশ্লেষকই পাকিস্তান ও সৌদির এ পদক্ষেপকে বিপজ্জনক মনে করছেন না। তাদের মতে, দিল্লি হয়তো ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। কারণ, সৌদি আরব ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ককেই প্রাধান্য দেয়। ভারত সৌদির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও জ্বালানি আমদানিকারক দেশ।

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বিবিসিকে বলেছেন, এ চুক্তি সরাসরি কোনোভাবে ভারতকে বাধাগ্রস্ত করছে না। ভারতের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে সৌদি আরবের, তারা ভারতের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপ নেবে না।

কিন্তু, একইসঙ্গে তিনি এও বলেছেন, পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে টেনে এনে সৌদি আরব কার্যত ভারতকে ‘চেকমেট’ করেছে। এখন পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন, তুরস্ক এবং সৌদি আরব— যারা সাম্প্রতিক সংঘাতে পাকিস্তানকে অস্ত্রও দিয়েছে।

অনেক বিশেষজ্ঞ আবার মনে করছেন, পাকিস্তান ও সৌদির এই চুক্তির তাৎপর্য ভারতের জন্য তাৎক্ষণিক সামরিক হুমকির চেয়ে বরং আঞ্চলিক জোট–সমীকরণে পরিবর্তন আনবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক হাডসন ইনস্টিটিউটের গবেষক ও সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক হুসেইন হক্কানি বিবিসিকে বলেছেন, ভারতের উদ্বেগ ‘বহুমাত্রিক’। তার মতে, এ চুক্তি পাকিস্তানকে সেইরকম একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে, যেরকম শীতল যুদ্ধকালে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল।

তবে, তিনি সতর্ক করেছেন, আসলে বিষয়টা নির্ভর করবে ‘আগ্রাসন’ ও ‘আগ্রাসী’ শব্দের সংজ্ঞায় রিয়াদ ও ইসলামাবাদের অবস্থান এক হয় কি না। এছাড়া, এর ফলে ভারত–সৌদি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও চাপে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের যেসব পরামর্শ

1

তাইওয়ানে চীনের গুপ্তচরবৃত্তি

2

স্টারমারের ‘পথ খোঁজার’ আহ্বান ও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভবিষ্

3

অর্থের বিনিময়ে নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ছক, যুবক গ্রেপ্তার

4

কৃত্রিম বৃষ্টি নামিয়ে মরুভূমিকে সবুজ করবে সৌদি আরব

5

মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী

6

বিএনপিতে কি ফিরবেন রুমিন ফারহানা?

7

পাকিস্তানের ফার্স্ট লেডি বিবি আসিফা কি নির্দেশ করলেন

8

ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু

9

মুটিয়ে যাবে বিশ্বের ৫০ কোটির বেশি শিশু

10

বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হতে আগ্রহী অ্যান্টোইন হে

11

মাতাল অবস্থায় সিংহের খাঁচায় যুবক, তারপর যা ঘটল

12

বিশ্বের ৭টি দেশের নামে ‘স্তান’ থাকার কারণ কি?

13

তরমুজের খোসা-বীজেও মিলবে উপকার

14

যে ৫ শর্তে যুদ্ধ শেষ করবেন নেতানিয়াহু

15

দল বাঁচাতে আ.লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূলের

16

ঢাবিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব পাল

17

আজ থেকে ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর

18

হাভার্টজের শেষের গোলে আর্সেনালের জয়

19

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ফুয়াদ

20