মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদল নিয়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের পর পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন, এমনকি তাঁদের অপসারণ করা হতে পারে বলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব খবর নাকচ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সংবাদকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া খবর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পেছনে নয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার চাপও জোরালো হয়েছে।
এমনকি বিদায়ী এক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আগামী সপ্তাহেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার হুমকি দিয়েছেন।
তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এক ভিডিও বার্তায় হেগসেথ বলেন, তাঁদের সফলতা ও কার্যকারিতার কারণেই প্রতিপক্ষ আক্রমণ চালাচ্ছে। তাঁরা কোনোভাবেই পিছু হটবেন না। এ সময় তিনি সামরিক নিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা খাতের পুনর্গঠন এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করছেন—এমন দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে রুবিও স্পষ্ট জানান, ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়েই দায়িত্ব পালন করার পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে। বর্তমানে নিজের পদে কাজ করাও উপভোগ করছেন বলে জানান তিনি।
পিট হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও তাঁকে স্বপদে বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হেগসেথকে নিয়ে তাঁর কাছে একাধিক প্রস্তাব ও ফোনকল এসেছে। তবে তাঁকে পদে রাখার ব্যাপারে তাঁর পূর্ণ ইচ্ছা রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে হেগসেথের কাজের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরান যুদ্ধে হেগসেথের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের মূল কৌশল নির্ধারণে যুক্ত থাকা আরও দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার বিষয়েও ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তাঁরা হলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্টকমপ্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা চললেও রুবিও ও হেগসেথের পদত্যাগের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন