সারা দেশে হামের বিস্তার ও শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা হামের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, রোগটিকে মহামারি ঘোষণা এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম–এর বিচারের দাবি জানান।
বুধবার বিকেলে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হামের বিস্তার রোধে সাবেক প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি, এই ব্যর্থতার কারণেই বহু শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সরকারকে দ্রুত হামকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান প্রশাসন—দুই সময়েই হামের বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি দেখা গেছে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি এমন যে প্রতিদিন শিশুদের মৃত্যু বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ দাবি করেন, দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের উদ্বেগ ও আহাজারির চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার সমালোচনা করেন।
সংগঠনটির সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই জনগণ অতীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের সংকটকে তিনি ‘মানবসৃষ্ট বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তির ঘটনাও সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মন্তব্য করুন