দেশে আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর আইইডিবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক সময় গণভোটকে হারাম বলা হয়েছে, আবার অন্য সময় সেটিকে আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হচ্ছে। তিনি রূপক উদাহরণ দিয়ে বলেন, একই অর্ডারের গোস্ত হালাল হলেও ঝোল হারাম—এ ধরনের ব্যাখ্যা জনগণ মেনে নেবে না।
আন্দোলনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াত আমির দাবি করেন, এটি শুধু ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪০০ শহীদের মধ্যে ১২০০ পরিবারের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন এবং তাদের ৬২ শতাংশই শ্রমজীবী মানুষ। তিনি বলেন, কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথমে ছাত্র ও যুবসমাজ আন্দোলনে নামে, তবে পরবর্তীতে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখা যাচ্ছে। একসময় যারা অবহেলার শিকার ছিলেন, এখন তারাই অন্যদের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশে ভাষা সংযত রাখার আহ্বান জানান এবং উসকানিমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন।
শেষে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম কোনো ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।
মন্তব্য করুন