ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে দাদি, ফুফু ও এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ভোরে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও র্যাব-১০-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে।
আকাশ গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপন করেন। তাঁকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নে গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এক যুবকের কোদালের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন তার দাদি, ফুপু এবং এক প্রতিবেশী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত দশটার দিকে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম আকাশ মোল্লা (৪০), যিনি ওই এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে এবং ফরিদপুর যক্ষ্মা হাসপাতালের পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই আকাশ পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, ঘটনার সময় আকাশ যখন তার দাদি ও ফুপুকে আক্রমণ করছিলেন, তখন তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী। ঘাতক আকাশ তখন তাকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। এছাড়া রিয়াজুল ইসলাম নামের আরেক প্রতিবেশী এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রাজ্জাক শেখ জানান, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থার অবনতি হতো, তখন তিনি হাসপাতালেও যেতেন না। তবে অন্য সময় তিনি স্বাভাবিক মানুষের মতোই আচরণ করতেন। মূলত মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। জনস্বাস্থ্য বিভাগে তার চাকরিটিও ছিল এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পাওয়া।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত আকাশকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, রাত পৌনে বারোটার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তিনজনের মৃতদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।